ওষুধ নেই কমিউনিটি ক্লিনিকে, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নেই। চিকিৎসাসেবা দিতে এসে ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে রোগীরা।
কমিউনিটি ক্লিনিক সূত্র জানায়, গ্রামের দরিদ্র মানুষকে বিনা খরচে চিকিৎসাসেবা দিতে মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপিত হয়। এখানে সর্দি, জ্বর, আমাশয়, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথাসহ নানা রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এসব ক্লিনিকে তিন মাসের জন্য প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, অ্যান্টাসিড, হিস্টাসিন, খাওয়ার স্যালাইনসহ ২৭ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। তবে গত ২৯ মের পর থেকে এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে থলপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সিএইচসিপি রোগীদের চাহিদামতো সেবা দিতে পারছেন না। ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক রোগী।
সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা থলপাড়া গ্রামের রোজী আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাড়ির কাছে ক্লিনিক থাইক্যা লাভ কী হইল? আসলেই খালি ওষুধ নাই, ওষুধ নাই।’

লাঠি ভর করে চিকিৎসা নিতে আসা সুজন মিয়া বলেন, ‘পেটের সমস্যা হওয়ায় ওষুধ নিতে আইছিলাম। ওষুধ না থাকায় ফিরে যাচ্ছি।’
গ্রামের সন্দেশ খানের স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও সুজন খানের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, ‘মাঝে মধ্যে ওষুধ নিতে আসি। আসলেই বলে ওষুধ নাই, শেষ হইয়া গেছে। তাহলে ওষুধ দেয় কারে?’
কবিতা বেগম নামের আরেকজন জানান, তিনি ডায়রিয়ার ওষুধ নিতে এসেছিলেন। ওষুধ না থাকায় শুধু খাবার স্যালাইন দেওয়া হয়েছে তাকে।

জানতে চাইলে থলপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা সিএইচসিপি মালেকা জাহান শিমু জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ ক্লিনিকের আওতায় প্রায় ছয় হাজার মানুষ রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৭০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। ২৭ প্রকারের যে পরিমাণ ওষুধ পাই, তার মধ্যে সিরাপ, চোখের ড্রপ, মলম, ক্যালসিয়াম দেড়-দুই মাসেই শেষ হয়ে যায়। এরপর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে রোগীদের চাহিদামতো ওষুধ বিলি করা যাচ্ছে না। ওষুধ বিতরণের তালিকার ৩, ৬, ১০, ১২, ১৪, ১৮, ২২ ও ২৪ নম্বর সিরিয়ালের ওষুধ নেই। ওষুধের বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হলে এ সমস্যা থাকবে না।’
এ বিষয়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, তিন মাস পর পর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। সবশেষ গত ২৯ মে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে থলপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকটের কথা তাকে জানানো হয়নি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরবর্তী শিডিউলের ওষুধ এলে এ সংকট থাকবে না বলে তিনি জানান।
এস এম এরশাদ/এসআর/জেআইএম