নওগাঁয় দুর্গোৎসবে প্রতিমা কারিগরদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
শারদীয় দুর্গা উৎসবকে ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর মৃৎশিল্পীরা। তবে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম বাড়ায় বেড়েছে খরচও। তরে শারদীয় এ উৎসবকে ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন প্রতিমা কারিগররা।
জেলায় প্রায় শতাধিক শিল্পী সারা বছর বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করলেও দুর্গাপূজায় তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। করোনার কারণে গেল দুবছর দুর্গা উৎসবে ভাটা পড়লেও এ বছর বেশ জাকজমকভাবেই উদযাপিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাতদিন কাজ করে দেবি-দুর্গাসহ বিভিন্ন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ততম সময় পার করছেন শিল্পীরা। শিল্পীর সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে প্রতিমাগুলো। এরপর রংতুলির আঁচড়ে যেন জীবন ফিরে পাবে এগুলো।
মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ কাজ করে লাভের অংশ দিয়ে সারা বছর তাদের সংসার চলে। তবে এবার প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম বাড়লেও প্রতিমার দাম বাড়েনি। এতে লাভের অংকটা কম হবে বলে আশঙ্কা তাদের।
নওগাঁ শহরের ঘোসপাড়া এলাকার প্রতিমা শিল্পী গোজেন পাল জাগো নিউজকে বলেন, বংশ পরম্পরায় প্রতিমা তৈরি করছি। এ বছর ২০-৫০ হাজার টাকা মূল্যের প্রতিমার (১৬টি) অর্ডার নিয়েছি। এরই মধ্যে প্রতিটি প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ফিনিশিংয়ের কাজ। দু-এক দিনের মধ্যে রং ও তুলির কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, প্রতিমা তৈরি করতে গিয়ে এ বছরের মতো বিড়ম্বনায় কখনো পড়তে হয়নি। প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামসহ সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিটি প্রতিমায় ৩-৪ হাজার টাকা খরচ বেশি পড়ছে। এতে লাভ সীমিত হবে। তবে করোনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় আমরাও ঘুরে দাাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
রংতুলি শিল্পী সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, পূজার মৌসুমে প্রতিমায় রংতুলির কাজ করা হয়। শিল্পীদের কাছ থেকে দেখে দেখে এ কাজ শিখেছি। এবার ২০-২১ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।
শ্রমিক রমেশ চন্দ্র সরকার বলেন, এ বছর মজুরি চড়া। গতবছর দৈনিক ৫০০ টাকা পেলেও এ বছর ৭০০-৮০০ টাকায় কাজ করছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মজুরিও বেড়েছে।
নওগাঁ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটি সাধারণ সম্পাদক বিভাস মজুমদার গোপাল বলেন, এ বছর ৮১৬টি মণ্ডপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গা উৎসব উদযাপিত হবে। বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদযাপন করা হবে। তবে সরকারি কিছু বিধিনিষেধের কারণে নিরাপত্তার জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে যতটুকু আলোকসজ্জার প্রয়োজন করা হবে।
নওগাঁ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক বলেন, জেলার কোথাও যেন অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয় সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূজা চলাকালীন মণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আনসার সদস্যসহ পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে।
আব্বাস আলী/এসআর/এএসএম