বৌদ্ধ পল্লি ট্র্যাজেডি

সম্প্রীতিতে কেটেছে আস্থার সংকট

সায়ীদ আলমগীর
সায়ীদ আলমগীর সায়ীদ আলমগীর কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১০:৩২ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ পল্লি ট্র্যাজেডির ১০ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে গুজবের সূত্র ধরে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও পল্লির ২৬টি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন একই ঘটনার জের ধরে উখিয়া-টেকনাফে আরও ৭টি বৌদ্ধ বিহার পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ শীল প্রিয় মহাথের বলেন, ঘটনার দশ বছরে আমরা বাহ্যিক ক্ষত কাটিয়ে উঠেছি। বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় এখনো শঙ্কা থেকে যায়। কখন আবার আক্রমণের শিকার হতে হয়। সরকার সাক্ষীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে অনেক সাক্ষী নিরাপত্তার কারণে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকার চাইলে ভিডিও ফুটেজ নিয়ে অপরাধী শনাক্ত করে বিচার শেষ করা যেত।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা নীতিশ বড়ুয়া জানান, দিনটিকে স্মরণে রাখতে রামুর চেরাংঘাটা মৈত্রী বিহার উপাসনালয়ে বিশেষ স্মরণ সভা, ধর্মীয় অর্চনায় সবার শান্তি কামনা করা হবে।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় করা ১৯ মামলায় ১৫ হাজার ১৮২ আসামির কম-বেশি সবাই জামিনে রয়েছেন। ৫২৬ জন গ্রেফতার হওয়ার পর আর বাকিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। সব মামলারই চার্জশিট হলেও ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ায় বিচার নিষ্পত্তি নিয়ে অতটা আগ্রহী নন। তারা সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারলে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি হবে।



রামু বৌদ্ধ কল্যাণ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পলক বড়ুয়া আপ্পু বলেন, বৌদ্ধ পল্লি ট্যাজেডির হোতাদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল গঠন করা হলেও সাক্ষীর কারণে গত ১০ বছরেও মামলার চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি। তবে বিচারকার্য নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও সম্প্রীতিতে আস্থার সংকট অনেকটা কেটেছে। সরকার নিজ উদ্যোগে বিচার কার্যক্রম শেষ করলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করতে কেউ সাহস পাবে না।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আইনজীবী ঐক্য পরিষদ কক্সবাজারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট বাপ্পী শর্মা বলেন, বৌদ্ধ পল্লি ট্র্যাজেডিতে রামুর সহস্রাব্দের গর্ব ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে’ যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল তা কেটেছে। আমাদের প্রত্যাশা প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত হলে সম্প্রীতির জায়গাটা আরও সমৃদ্ধ হবে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ১৮ মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে। যেসব আসামি পলাতক রয়েছেন তাদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে।

এর আগে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তম বড়ুয়া নামের এক বৌদ্ধ যুবকের ফেসবুকে কোরআন অবমাননাকর ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তরা রামুর বৌদ্ধ পল্লিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করে। এসময় তার ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও ২৬টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয়।

সায়ীদ আলমগীর/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।