চিরচেনা রূপে হ্রদ-পাহাড়ের শহর রাঙ্গামাটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০২২

চিরচেনা রূপ ফিরে পেয়েছে হ্রদ-পাহাড় আর মেঘের শহর রাঙ্গামাটি। শুক্রবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে শহরের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে দেখা যায় সবখানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন হ্রদ-পাহাড়ে, সিক্ত হচ্ছেন ঝর্ণার জলে।

সেখানে আসা পর্যটকরা জানান, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। সবুজ পাহাড়ের পাদদেশ সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ। এমন প্রকৃতির টানে হ্রদ, পাহাড় ও মেঘের মিতালি উপভোগ করতে রাঙ্গামাটি ছুটে আসা। শহরের পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক, ঝুলন্ত সেতু, বার্গি, বরগাঙ, সুবলং ঝর্ণাসহ সবখানে পর্যটকদের অধিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

ঢাকা থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা তৌফিক আহম্মেদ বলেন, তিনদিন বন্ধ রয়েছে ব্যাংক। তাই একটু যান্ত্রিক শহরের যন্ত্রণা ভুলে প্রকৃতির কাছে এসে নিজেকে একটু রিফ্রেশ করার চেষ্টা করছি।

তারই আরেক বন্ধু লিপি খন্দকার বলেন, রাঙ্গামাটি আসলে অনেক সুন্দর। আমি আগে পাহাড় দেখিনি। এ প্রথম পাহাড় দেখেছি। আসার সময় বন্ধুর বাইকে করে এসেছি আমরা। তখন তারে বলছিলাম যে রাঙ্গামাটি আসলে অনেক সুন্দর একটা জায়গা। তিনি আরও বলেন, এমনিতে তো ছুটি পাই না। ছুটি ম্যানেজ করা খুব কষ্টের। এবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ তিনদিনের একটি ছুটি পেয়েছি তাই আমরা ছয় সহকর্মী এক সঙ্গে বাইক নিয়ে ঘুরতে আসলাম। রোববার রাতে ফিরে যাবো।

সানজিদা ইয়াসমিন নামের আরেক পর্যটক বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরি করি। তাই বাচ্চাদের কম সময় দেওয়া হয়। এবার তিনদিনের টানা ছুটি পেলাম বাচ্চাদেরও বন্ধ আমাদেরও বন্ধ তাই ঘুরতে আসা। সামনে বাচ্চাদের পরীক্ষা তারা একটু রিফ্রেশ হয়ে গেলো।

rangamati-(2)

রাঙ্গামাটির হোটেল নাদিশা ইন্টান্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. শাহিন বলেন, রোববার পর্যন্ত আমাদের সব রুম বুকিং। বুকিং নিতে না পেরে অনেক পর্যটকদেরকে না করে দিচ্ছি। বলতে পারি আমাদের হোটেল শতভাগ বুকিং রয়েছে।

পর্যটন বোট ঘাটের ইজারাদার মো. রমজান আলী জাগো নিউজকে বলেন, প্রচুর পর্যটক আসছে। আমাদের ব্যবসা অনেক ভালো হচ্ছে। আশা করি সামনেও ভালো ব্যবসা করতে পারবো।

সাজেকের ছাড়ানীড় রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী ইয়াছিন রাসেল জানান, আমাদের প্রতিটি রুম আগামী এক সাপ্তাহ পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। প্রচুর পর্যটক আসছে। পর্যটকের পদচারণায় বর্তমানে সাজেক ভরপুর বলা যেতে পারে।

চাঁদের বাড়ি রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মো. ফারুক বলেন, আমাদের রিসোর্ট গত ১৫-২০ দিন আগের থেকে বুকিং হয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের রিসোর্ট পর্যটকে ভরপুর।

ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙ্গামাটি জোনের এএসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এবারের ছুটিতে রাঙ্গামাটি জেলায় অর্ধ লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশা করছি আমরা সব প্রকার পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পারবো।

সাইফুল উদ্দীন/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।