দৃষ্টিহীন বাবা, পরিবারের হাল ধরা কিশোর রহমানের পাশে ডিসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২২

তিন বছর আগে চোখে ছানি পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারান সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আব্দুর রহমানের বাবা সিরাজ মুন্সি। তিনি দৃষ্টিহীন হওয়ার পর অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি। এ অবস্থায় পরিবারের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নেয় কিশোর আব্দুর রহমান (১৩)। স্কুলের বই-খাতা আলমারিতে রেখে ভ্যানের হ্যান্ডেল হাতে ধরেছে সে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী এই কিশোর।

২৫ সেপ্টেম্বর জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল জাগো নিউজে 'বাবা দৃষ্টিহীন, পাঁচ সদস্যের পরিবারের হাল ধরেছে আব্দুর রহমান' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচার হয়। সংবাদটি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পারভেজ হাসানের নজরে আসে। এর পরই অসহায় আব্দুর রহমানের পরিবারের পাশে দাঁড়ান তিনি। তাদের হাতে তুলে দেন চায়ের দোকানের সামগ্রী।

ডিসি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় অসহায়ের পাশে দাঁড়ান। তারই অংশ হিসেবে আব্দুর রহমানকে চায়ের দোকান করার জন্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

এরমধ্যে আছে একটি ডাবল চুলা, একটি গ্যাস সিলিন্ডার, দুটি কেটলি, একটি সসপ্যান, একটি বালতি, একটি বল, একটি ছাঁকনি, এক ডজন কাপ, দশ কেজি চিনি, পাঁচ কেজি চা পাতাসহ দোকানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

আব্দুর রহমান বলে, আমি চায়ের দোকানের জন্য সব পেয়েছি। দোকান করে যা আয় হবে তা দিয়ে আমার সংসার চলে যাবে। আমার বাবা চোখে দেখেন না, চিকিৎসা দরকার। কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই। আশা করি চায়ের দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি বাবার চিকিৎসাও করাতে পারবো।

ভ্যান চালিয়ে অন্য ১০টি পরিবারের মতো ভালোই চলে যাচ্ছিল শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের নাওডোবা গ্রামের সিরাজ মুন্সির। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে হঠাৎ তার চোখে ছানি পড়ে। কিন্তু চিকিৎসা না করার কারণে ধীরে ধীরে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তখন সিরাজের একমাত্র ছেলে আব্দুর রহমান (১১) চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

সিরাজ মুন্সি দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় আব্দুর রহমান পড়াশোনা বন্ধ করে সংসারের হাল ধরে। ছয়মাস ভ্যান চালায়। তবে যাত্রী বহন করতে কষ্ট হওয়ায় ভ্যানে করে চা, পানি ও চকলেট বিক্রি করে এই কিশোর। সারাদিন বিক্রি করলে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয়। এ টাকা দিয়েই কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের পাঁচজনের সংসার।

মো. ছগির হোসেন/জেএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।