বেতন বাকি

খাতা কেড়ে নিয়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীকে বের করে দিলেন প্রধান শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২২
বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি অনুষ্ঠানের ছবি এটি/ফাইল ছবি হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়েছে

প্রস্তুতি নিয়ে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে এসেছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের মুখে পড়ে তারা। ‘বেতন বকেয়া’ থাকায় খাতা (উত্তরপত্র) ও প্রশ্ন কেড়ে নিয়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেন। প্রধান শিক্ষকের এই আচরণে শিক্ষার্থীদের মনে কষ্ট, অভিমান ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা বলছেন, এটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য মানহানিকর ও অপমানজনক।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) নাটোরের বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এদিন বিদ্যালয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট পর প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান পরীক্ষা দিতে আসা সব শিক্ষার্থীদের খাতা ও প্রশ্ন কেড়ে নেন। এরপর তাদের বের করে দেন হল থেকে।

শিক্ষার্থীদের অনেকে বলেন, তাদের মধ্যে তিন চতুর্থাংশের বেতন পরিশোধ থাকলেও পরীক্ষা দিতে দেননি প্রধান শিক্ষক।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রুটিন অনুযায়ী ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে। এ সময় শিক্ষকরা উত্তরপত্র দেন। ১০টার ঘণ্টা বাজলে দেন প্রশ্নপত্র। আকস্মিক প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান পরীক্ষার হলে এসে কে কে বেতন দেয়নি জানতে চান। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বেতন বকেয়া আছে বলে স্বীকার করেন। এতে রাগান্বিত হয়ে প্রধান শিক্ষক খাতা ও প্রশ্ন কেড়ে নিয়ে তাদের হল থেকে বের করে দেন।

অভিভাবক মোসলেমউদ্দিন মণ্ডল, রঞ্জিত কুমার কুণ্ডু, মুকুল হোসেনসহ অনেকেই জানান, বেতন বকেয়া যার, তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারতো। তবে যাদের পরিশোধ রয়েছে তাদের কাছ থেকে খাতা-প্রশ্ন কেড়ে ক্লাস রুম থেকে বের করে দেওয়া ঠিক হয়নি। এছাড়া বেতন আদায়ের জন্য এ আচরণ রীতিমতো স্বেচ্ছাচারিতা ও আপত্তিকর।

ওই বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক লাভলী বেগম জানান, খাতা ও প্রশ্ন বিতরণের আগে যদি প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা না নিতে নির্দেশ দিতেন তাহলে হয়তো ঠিক হতো। এতে করে প্রশ্ন বাইরে চলে গেছে এবং আমাদের সারাদিন পরিশ্রম করে আবার প্রশ্ন তৈরি করতে হচ্ছে। এছাড়া বেশ পরিমাণ অর্থও অপচয় হলো।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি তার কর্মকাণ্ডকে সঠিক বলে দাবি করেন।

প্রধান শিক্ষক বলেন, আমি যা করেছি, ঠিকই করেছি। আপনি পত্রিকার পাতায় বড় করে আমার বিরুদ্ধে নিউজ ছাপিয়ে দেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের নাটোর জেলার আহ্বায়ক অমর ডি কস্তা বলেন, যে সব দরিদ্র শিক্ষার্থী বেতন দিতে পারে নাই এবং যাদের পরিশোধ রয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খাতা ও প্রশ্ন কেড়ে নিয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া সম্পূর্ণই শিশু সুরক্ষা নীতিমালা ও আচরণবিধি পরিপন্থী। কোমলমতি এ সব শিক্ষার্থীদের মনে আঘাত দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি।

রেজাউল করিম রেজা/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।