৬ বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির নামে চাঁদাবাজি মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
ছয় বছর আগে মারা যান মুজাফফর হাওলাদার

জমি সংক্রান্ত জেরে প্রতিপক্ষের করা চাঁদাবাজি মামলায় মুজাফফর হাওলাদার (৬৮) নামের মৃত এক ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে।

শরীয়তপুরের সখিপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি করেন মিলন বকাউল (৫০) নামের এক ব্যক্তি। আদালতের নির্দেশে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সখিপুর থানার চরভাগা বকাউলকান্দি এলাকার বাসিন্দা মৃত ইদ্রিস আলী বকাউল। প্রায় ৩০ বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের কাছে চার একর জমি বিক্রি করেন তিনি। সেই জমি নিয়ে ২৭ নভেম্বর আটজন কৃষকের নামে একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন ইদ্রিসের ছেলে মিলন বকাউল। মুজাফফর হাওলাদারকেও ওই মামলায় সাত নম্বর আসামি করা হয়।

তবে মুজাফফরের মৃত্যু সনদ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর ব্লাড ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। কবরও দেওয়া হয় নিজ এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে।

মামলার এজাহার বলা হয়েছে, ২৯ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে চরভাগা খুনিকান্দি এলাকার নুরু মাল, রমিজল মাল, হরমুজ মাল, মালেক মাল, কাদির মাল, মোতালেব হাওলাদার, মুজাফফর হাওলাদার, শাকিল ব্যাপারীসহ পাঁচ-ছয়জন মিলন বকাউলের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। পরিবারের লোকজনকে মারধর করেন তারা। এ সময় মিলনের কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। আরও ১ লাখ টাকা মিলনের কাছে দাবি করেন।

মৃত মুজাফফর হাওলাদারের ছেলে আলমগীর হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘বাবার জমি দখলের চেষ্টা করছেন মামলার বাদী মিলন বকাউল। শুধু আমি না, আমার মতো অনেক পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। যাতে করে আমরা ভয়ে পালিয়ে যাই। আর তারা এ সুযোগে জমি দখল করে।’

তবে অভিযুক্ত বাদী মিলন বকাউল বলেন, ‘কোনো মৃত ব্যক্তির নামে মামলা করিনি। আমার জানা মতে তিনি বেঁচে আছেন। তারা আমার জমি দখল করে নিয়েছে। এখন আমি আমার জমি দখলে নিতে চাই। কিন্তু তারা দিচ্ছে না। উল্টো চাঁদা দাবি করছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য বোরহান ব্যাপারী, আজহার মোল্যা, মোহম্মদ আলী ব্যাপারী বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার সালিশ করেছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। মূলত হয়রানি করতে মৃত ব্যক্তিসহ বিভিন্ন নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে৷

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সখিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেন বলেন, মূলত মামলাটি জমিজমার বিষয় নিয়ে। মামালার সাত নম্বর আসামি ছয় বছর আগেই মারা গেছেন। মামলার বাদীর বাবা ও চাচা প্রায় ৩০ বছর আগে বিবাদীদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন। বিবাদীরা কাগজপত্র সঠিক করতে পারেনি, খাজনা দেননি তাই সরকারি খাসে পরিণত হয়ে যায়।

এসআই আরও বলেন, যতটুকু জেনেছি ৩০ বছর যাবত ভোগ দখলে আছে বিবাদীরা। জমি সরকারি খাস হওয়ার পর মিলন বকাউলরা নাকি বন্দবস্ত আনে। এবিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ দরবারও হয়েছে। বর্তমানে বিবাদীদের কাছ থেকে বাদী মিলন বকাউল জমি দখলে নিতে চায়। এ ঘটনা নিয়েই মূলত মামলাটি হয়েছে। তবে তদন্ত চলছে।

মৃত ব্যক্তি আসামি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, আদালত থেকে এফআইআরের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাই শুক্রবার মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।

তিনি আরও বলেন, সাত নম্বর আসামি যদি মারা গিয়ে থাকেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

মো. ছগির হোসেন/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।