বিষ মেশানো গম খেয়ে মারা গেলো অর্ধশত কবুতর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

নাটোর সদর উপজেলায় বিষ মেশানো গমবীজ খেয়ে ৫২টি কবুতরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের চন্দ্রকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

চন্দ্রকোলা গ্রামের রাজু ইসলাম জানান, তার ৪০টি কবুতরসহ একই গ্রামের আরও চার/পাঁচজনের দুই শতাধিক কবুতর রয়েছে। অন্য দিনের মতো সোমবার সকালে পাখিগুলো মাঠে খাবার খেতে বের হয়।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন কবুতরগুলো দুপুরের পরপরই বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু সোমবার বিকেলেও পাখিগুলো না আসায় তারা মাঠে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এসময় তারা দেখেন, বাবু ইসলামের গমের জমির আশপাশে ৫২টি কবুতর মরে পড়ে আছে।

একই গ্রামের তারেক কবিরাজের ৩২টি কবুতর ছিল। এ ঘটনায় তারও কয়েকটি কবুতর মারা গেছে। তারেক বলেন, বাবু ইসলাম পাখির হাত থেকে গমবীজ রক্ষার জন্য বিষ মিশিয়ে তা জমিতে বপন করেছিলেন। বিষয়টি তিনি গ্রামের কাউকে জানাননি। তাই আমাদের কবুতরগুলো মারা গেছে।

এ বিষয়ে বাবু ইসলাম জানান, তিনি ছাড়াও গ্রামের আরও কয়েকজন পাখির অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য গমের বীজের সঙ্গে কিছু পাউডার মিশিয়েছেন। কারণ তার জমিতে কিছু স্থানে বীজ গজায়নি। একারণে কেজিতিনেক বীজের সঙ্গে তিনি পাউডার মিশিয়েছিলেন। ওই পাউডারে কবুতর মারা যাওয়ার কথা নয়। তবে কী পাউডার মিশিয়েছেন, তা তিনি বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে তেবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি মঙ্গলবার সকালে চন্দ্রকোলা গ্রামে গিয়েছিলাম। তারা একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয়। একারণে জমির মালিক ক্ষমা চেয়েছেন এবং উভয়পক্ষে কোলাকুলি করে মিলমিশ করে দেওয়াসহ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ক্ষতির পরিমাণ গ্রামপ্রধানরাই ঠিক করে দেবেন জানিয়ে চেয়ারম্যান ফারুক আরও বলেন, নইম নামে যে বিষ ব্যবহার করা হয়েছে তা সুগারমিল কর্তৃপক্ষ আখের পোকা নিধনের জন্য দিয়ে থাকে। এ বিষ খুচরা দোকানদারদের কাছে কীভাবে গেলো তা তদন্ত করা দরকার।

রেজাউল করিম রেজা/এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।