উখিয়া সীমান্তে ইয়াবা কারবারির সঙ্গে বিজিবির গোলাগুলি
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা সীমান্তে ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল হাজীর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ব্যাডমিন্টন খেলার জেরে জোড়া খুন, গ্রেফতার ২
সীমান্তে ইয়াবা কারবারিরা গুলি ছুড়লে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার চালান আসছে এমন খবরে রহমতের বিল হাজীর বাড়ি এলাকায় বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহলদল অভিযান চালায়। টের পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিজিবি টহলদলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় বিজিবি টহলদল কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি ছোড়ে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় আরজে কিবরিয়ার জিডি, যা বললেন ফেসবুকে
সাইফুল ইসলাম আরও জানান, ফায়ারের ঘটনায় বিজিবি টহলদলের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কোনো সদস্য আহত কিংবা নিহত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। ঘটনার পর থেকে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে। বাড়ানো হয়েছে টহল এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম।
তবে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট নবী হোসেন গ্রুপের সদস্যরা চোরাচালান নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে। এ সময় ধামনখালী এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা দুজনকে টহল দল আটক করে তল্লাশি চালালে নবী হোসেন গ্রুপ বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। অনবরত শতাধিক রাউন্ড ফায়ার করে তারা। বিজিবিও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়। ফায়ারে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’
আরও পড়ুন: একদিনে কক্সবাজারে ৪ মরদেহ উদ্ধার
তিনি আরও বলেন, ‘সশস্ত্র নবী হোসেন গ্রুপ মাদক ও অপহরণসহ সীমান্ত এলাকায় অপরাধের স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছে। তিনি মূলত মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থান করেন। তার গ্রুপের হাতে অনেক নিরাপদ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে মাদক পাচারের মূল হোতা। বিজিবি নবী হোসেনকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
গত বছরের জুলাই থেকে টানা কয়েকমাস মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলে। সেসময় অনেক গোলা বাংলাদেশের মাটিতেও এসে পড়েছে। গত মাস দুয়েক ধরে সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবার গুলির শব্দে সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমএস