সালিশ বৈঠকে চাচার মারপিটে ভাতিজা নিহত
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সালিশ বৈঠকে চাচা ও তার লোকজনের মারপিটে রায়হান (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান মারা যান।
নিহত রায়হান উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর পশ্চিমপাড়ার বাদশা মিয়ার ছেলে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হেউটনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের রনজু মিয়ার ছেলে ইব্রাহিমের (৩) সঙ্গে ১৬ জানুয়ারি বিকেলে প্রতিবেশী রাশেদের ছেলে হাসান (৩) বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করছিল। এসময় অসাবধানতাবশত হাসানের লাঠির আঘাতে ইব্রাহিম আহত হয়।
এ ঘটনায় রাশেদের স্ত্রী রুমি খাতুন অকথ্য ভাষায় ইব্রাহিম ও তার পরিবারের লোকজনকে গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় নিহত রায়হানের মা রাহেনা খাতুন তাকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করেন। এ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাশেদ ও তার স্ত্রী রুমি খাতুন নিহত রায়হানের বাবা-মাকে মারধর করেন।
১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে প্রতিবেশী মোজাম্মেল হকের বাড়িতে উভয় পক্ষকে নিয়ে মিমাংসা বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রায়হানকে তার চাচা শহিদুল ইসলাম ও তার লোকজন মারপিট করে আহত করেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
১৮ জানুয়ারি রায়হান হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে যান। কিন্তু বাড়িতে ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় তিনি মারা যান।
রাশেদ ও তার স্ত্রী রুমি খাতুন পলাতক থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এফএ/জিকেএস