দুই যুবক খুন

বোন-দুলাভাইয়ের সঙ্গে হজে যাওয়ার কথা ছিল রনির

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০১:৫১ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
দুই ভাইকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন শামসুন্নাহার

বোন আর দুলাভাইয়ের সঙ্গে ওমরা হজে যাওয়ার কথা ছিল শফিকুল ইসলাম রনির। সে অনুযায়ী নেওয়া হয়েছিল সব প্রস্তুতিও। কিন্তু হজে আর যাওয়া হলো না তার। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাদের হাতে খুন হন রনি ও তার বড় ভাই। তার আরেক ভাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

এদিকে দুই সন্তানকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় ষাটোর্ধ্ব জহুরা বেগম। ভাইদের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাদের বোন শামসুন্নাহার।

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর পাঁচপাড়া এলাকায় নিহতদের বাড়িতে গিয়ে শোকের মাতম দেখা যায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকা।

আরও পড়ুন: দুই ভাই হত্যা, হামলাকারীদের বাড়িঘরে আগুন দিলো এলাকাবাসী

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জহুরা বেগম বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেলো, আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো? আমার নাতি-নাতনিরা কাকে বাবা বলে ডাকবে? ওদের এখন কে দেখবে? আল্লাহ কেন আমাকে এত বড় শাস্তি দিলো। সামান্য জমি নিয়ে ওরা আমার সন্তানকে এভাবে খুন করতে পারলো। আল্লাহ ওদের মাফ করবে না। আমি ওদের ফাঁসি চাই। আর কিছু চাই না আমি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতদের বোন শামসুন্নাহার বলেন, ‘৫ মিনিটের মধ্যে ভাইগো কোপাইয়া নির্মমভাবে মাইরা ফেললো। মার্চের ২ তারিখ আমাগো হজে যাওয়ার কথা ছিল। রনিরও যাওয়ার কথা ছিল। এটা আল্লাহ আমাগো কোন হজে পাঠাইয়া দিলো।’

রোববার দুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. আসলাম সানি (৪৮) ও শফিকুল ইসলাম রনি (৩৫) খুন হন। তাদের আরেক ভাই রফিকুল ইসলাম (৪০) আহত হন।

পাঁচপাড়া এলাকার ওই তিন ভাইয়ের সঙ্গে চাচা মো. মহিউদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে সরকারি একটি সড়কের ড্রেন করা হচ্ছিল। ওই ড্রেনের জায়গা নিয়েই তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মোস্তফা (৪০), মামুন হোসেন (৩৫), মফিজুল ইসলাম (২৫), মারুফসহ (১৮) পরিবারের সবাই পলাতক আছেন।

নিহতদের স্বজন আবু নাইম মিয়া জানান, পাঁচপাড়ার দুই নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সানাউল্লাহর ছেলে আসলাম সানী ওই এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক আতাউর রহমানের কাছ থেকে ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে। এ জমিসহ পার্শ্ববর্তী আরও একটি জমি দাবি করে তার চাচা মহিউদ্দিন, চাচাতো ভাই মোস্তফা, মামুন ও মারুফ। এ নিয়ে আসলাম সানী, শফিকুল ইসলাম রনি ও রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল।

নাইম মিয়া আরও জানান, তাদের জমির পাশ দিয়ে সরকারি অর্থায়নের ৩ লাখ ১১ হাজার ২৪১ টাকা ব্যয়ে এলজিএসপি -৩ এর আওতায় খাস পাড়া আলী হোসেনের বাড়ি থেকে হারুনের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ও ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ ড্রেন মহিউদ্দিনের জায়গার ওপর দিয়ে যাচ্ছে এমন দাবি করেন তারা। এ নিয়ে চাচা মহিউদ্দিনের সঙ্গে আসলাম সানীর তর্ক বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে চাচাতো ভাই মোস্তফার নেতৃত্বে তারা আসলাম সানী ও শফিকুল ইসলাম রনি ও রফিকুল ইসলামকে এলোপাথারি কুপিয়ে আহত করেন।

সোনারগাঁ থানা পরিদর্শক (তদন্ত) আহসান উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, মরদেহগুলো এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজে আছে। ময়নাতদন্তের পর তাদের নিজ বাড়িতে আনা হবে। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। ঘটনার পর থেকে জড়িতরা সবাই পলাতক আছেন। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।

রাশেদুল ইসলাম রাজু/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।