শ্রমিক লীগ নেতাকে ‘টেনে দুই চোখ বের করার’ হুমকি
লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ হারুনকে ‘টেনে দুই চোখ বের করার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর একটি অডিও রেকর্ডিং স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
তাই নিরাপত্তা চেয়ে রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হারুনুর রশিদ।
হারুনের অভিযোগ, রামগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম লেদু মাল তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি আতঙ্কে আছেন।
অভিযুক্ত লেদু মাল রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ও রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল জামাল অপু মালের বাবা। অভিযোগকারী হারুন রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ও ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার টাউনহল মার্কেটের মুদি ব্যবসায়ী।
হারুন বলেন, ‘আমি রামগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি৷ বিষয়টি রামগঞ্জ উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি লেদু মাল জানতে পেরেছেন। ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে লেদু মোবাইল ফোনে কল করে আমাকে হুমকি দেন। টেনে দুই চোখ বের করার কথা বলেন তিনি। আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। হুমকির কল রেকর্ডও আছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম লেদু মাল বলেন, ‘হারুনকে কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে দেখিনি। ঢাকায় থেকে কীভাবে যেন তিনি জেলার পদ ভাগিয়ে নিয়েছে৷ হারুন আওয়ামী লীগকে বিক্রি করে খেতে এসেছে। তাকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।’
জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ইউছুফ পাটওয়ারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘হারুন আমাকে ঘটনাটি জানিয়ে কল রেকর্ডিংও পাঠিয়েছে। ঘটনাটি সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একবছর আগে রামগঞ্জ উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপরও লেদু মাল নিজেকে সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এজন্য তাকে শোকজও করা হয়।’
ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, হারুন একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। থানা থেকে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংগঠনিক স্থবিরতা ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকায় ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি রামগঞ্জ উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়৷ ওই কমিটিতে নজরুল ইসলাম লেদু মাল সভাপতি ছিলেন। কিন্তু একই বছর ২২ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নিজেকে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার খানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ফেস্টুন করে প্রচারণা চালায়। এতে জেলা শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকে তাকে শোকজ করা হয়।
কাজল কায়েস/এসজে/এএসএম