ঝড়ে টিন উড়ে যাওয়া ভবনে চলছে ক্লাস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১০:০৩ এএম, ১২ জুন ২০২৩

রোদ-গরমে ঝড়ে টিন উড়ে যাওয়া ভবনে ক্লাস করছে যশোরের অভয়নগরের মথুরাপুর পুড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ২৩ মে কালবৈশাখী ঝড়ে স্কুলের টিন উড়ে গিয়ে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শ্রেণিকক্ষ সংস্কার সম্ভব হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিকক্ষের টিনের চালা মেরামতের দাবি করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাককরা।

জানা গেছে, ২৩ মে মঙ্গলবার স্কুল ছুটির পর কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এসময় বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল উড়ে যায়। পরে স্কুলের তহবিল থেকে ৭ম ও ৮ম শ্রেণিকক্ষের টিনের চালা আংশিকভাবে মেরামত করা হয়। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৬ষ্ঠ শ্রেণিকক্ষের টিনের চালা মেরামতের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে গত ২৫ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় থেকে বাঁচতে আগেই যা করবেন 

রোববার উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর পুড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিকক্ষে পাঠগ্রহণ করছে। ৭ম ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আংশিক মেরামত করা শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করছে। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠদানে সমস্যার কথা তুলে ধরে উড়ে যাওয়া টিনের চালা মেরামতের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করে।

jagonews24

৮ম শ্রেণির সিনথিয়া আক্তার, ৭ম শ্রেণির মালতি রাণী ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির সিয়াম হোসেন জানায়, প্রায় ২০ দিন ধরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ক্লাস করছে। কিন্তু এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যথা নেই।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী জানান, তহবিল থেকে ৭ম ও ৮ম শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল আংশিক মেরামত করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিকক্ষের টিনের চালা মেরামতের অর্থ তহবিলে না থাকায় সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, কোমলমতি শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে লেখাপড়া করছে। শ্রেণিকক্ষ মেরামতের জন্য গত ২৫ মে ৮ বান টিন ও ৫০ হাজার টাকা অনুদান চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। তার কোনো কিছুই এখনও মেলেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দিন জানান, কোনো টিন না থাকায় জেলা প্রশাসকের নিকট বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র মথুরাপুর পুড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সহযোগিতা করা হবে।

মিলন রহমান/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।