‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না’
মিরসরাইয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে নিহত রায়হান হোসেন রুমনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের আজমপুর এলাকায় তাদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি থামছেই না। ছেলেকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন রুমনের মা।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে আনার পর হৃদয়বিদারক এ দৃশ্যের অবতারণা হয়। রুমনের মায়ের কান্না দেখে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আজমপুর বাজারে বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে রায়হান হোসেন রুমন (১৬) নিহত হয়েছেন। রুমন জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনপাহাড় এলাকার মৃত নুরের জামানের ছেলে। ছোটবেলা থেকে নানার বাড়ি ওচমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোর্ট গ্রামে নানার বাড়িতে থাকতো।
আরও পড়ুন: মিরসরাইয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ, নিহত ১
রুমনের মা খালেদা আক্তার বলেন, চার বছর বয়সে রুমনের বাবা মারা যায়। তিন ছেলেকে বুকে আগলে বাপের বাড়িতে চলে আসছি। রুমনকে সুফিয়ানের পানির দোকানে দিয়েছি। সেখানে মাসে চার হাজার টাকা বেতনে চাকরি করত সে। পাশাপাশি তার নানার দোকানে থাকতো। আমার ছেলেরতো কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না। তার কোনো অপরাধ ছিল না। তাহলে কেন আমার ছেলেকে খুন করে পুকুরে ফেলে দিল।

তিনি বলেন, আমিতো বাড়িতে থাকি। ছেলেরা বাইরে থাকে। কে মারছে আমি তো দেখিনি। কেউ বলছে বিএনপি মারছে, কেউ বলছে আওয়ামী লীগ মারছে। যারা আমার নিষ্পাপ ছেলেকে খুন করেছে তাদের বিচার চাই।
আরও পড়ুন: নিহত রুমনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে টানাটানি
রুমনের নানা আবুল কালাম বলেন, জুমার নামাজের পর রুমন আমার দোকানে আসে। এরপর একটি গাড়িতে পানি দেয়। রুমন আমার দোকানের পাশের একটি পানির দোকানে চাকরি করে। এসময় হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকজন দৌড়াতে থাকে। কয়েকজন আমার দোকান ঘেরাও করে ফেলে। আমার এখানে কেউ নেই বললে তারা চলে যায়। এর ৩০ মিনিট পর আমার পাশের দোকানদার বলে একজনকে মেরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি আমার নাতি রুমন পুকুরে পড়ে রয়েছে। রুমন ছাত্রলীগ নেতা হাসানের সঙ্গে মাঝে মধ্যে হাঁটতো। তবে সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমি শুরু থেকে বলে আসছি, এখনো বলছি- সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়।

আজমপুর বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, এত অল্প বয়সে রুমনকে চলে যেতে হবে কখনো ভাবতে পারিনি। ছেলেটাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। ও খুব ভদ্র ছিল। রাজনীতির বলি হয়ে গেলো বাবাহারা ছেলেটা।
এদিকে শনিবার বাদ আসর আজমপুর ঈদগা মাঠে প্রথম দফা জানাজা ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনপাহাড় এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এম মাঈন উদ্দিন/আরএইচ/জেআইএম