গোপালগঞ্জে নানান চাপে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা


প্রকাশিত: ০৯:০২ এএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৬

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় তৃতীয় পর্বের ইউপি নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোস্টার লাগানো, প্রচার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি ও কর্মীদের মারপিটসহ পুলিশী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওইসব ইউনিয়নে আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, এনিয়ে সংশয়ে রয়েছে সাধারণ ভোটাররা।
 
সরেজমিনে উপজেলার কাশিয়ানী সদর, সাজাইল ও সিঙ্গা ইউনিয়নের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ জানা যায়।

কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নের ভোটার ফারুক সর্দার অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিকদার খোকনের সমর্থক পিঙ্গলিয়া গ্রামের হায়দার আলী হিটলুকে বেধড়ক  মারপিট করে পুলিশে দেয় নৌকার প্রার্থী মশিউর রহমান খানের লোকজন।

তিনি জানান, হিটলু ঢাকা থেকে তার সমর্থিত প্রার্থীর জন্য পোস্টার মূদ্রণ করে কাশিয়ানীতে ফিরছিলেন। আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা কতিপয় সন্ত্রাসী গাড়ি থেকে নামিয়ে তাকে বেদম মারপিট করে পোস্টার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাকেই থানায় নিয়ে হাজতে আটকে রাখে।

বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক হয়ায় কাশিয়ানী বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী রেজাউল সিকদার ও আলমগীরকেও মারপিট করেছে সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও পোস্টার লাগানোর অভিযোগে ওই বাজারের টেলিভিশন মেকানিক তপুর পা ভেঙে দেয় নৌকা সমর্থক ও খায়েরহাট এলাকার করম আলী  সিকদার, এনামূল  সিকদার, জাপান মোল্লা ও কালু মৃধার লোকজন। একইভাবে ভিপি তুহিনকে পুলিশ আটক করে পরে ছেড়ে দেয়।
 
কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক আল সাবাহ সবুজ বলেন, সন্ত্রাসীরা ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পিঙ্গলিয়া ও কলেজ বাজার এলাকার দু’টি  নির্বচনী অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পোনা গ্রামের আহাদ মোল্লাকে মারপিট করে ও প্রচারকার্যে ব্যবহৃত মাইক বন্ধ করে দেয়। থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ উল্টো তাদের হয়রানি করছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

এদিকে কাশিয়ানীর সাজাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফরিদুল ইসলাম ফরিদকে সমর্থন করায় রাইতকান্দি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনিচুর রহমান লিটুকে কুপিয়ে জখম করেছে নৌকা মার্কার প্রার্থী কাজী জাহাঙ্গীরের লোকজন। কাশিয়ানী  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ার পরও অসুস্থ্য অবস্থায় প্রাণ ভয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে কোনো প্রতিকার পাননি উল্টো তাকে শাঁশিয়ে দিয়েছে পুলিশ বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আনিচুর রহমান।
 
সিঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দয়াল চন্দ্র বালা অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনভাবে ভোটাররা তাদের মত প্রকাশ করতে পারছে না। আমরা পোস্টার লাগাতে পারছি না। প্রচার প্রচারণায় নামলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়নে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা এনিয়ে আমি সংশয়ে আছি।

ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী সরোজিৎ দত্ত অভিযোগ করে বলেন, কোনো প্রচার প্রচারণা চালাতে পারছিনা।  গা ঢাকা থাকছি। গোপনে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি। ইউনিয়নের ভোটাররা নৌকাকে সমর্থন করে। কিন্তু নৌকার মাঝি যিনি হয়েছেন তাকে সমর্থন করছে না। তিনি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপ্রিয় নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
 
কাশিয়ানী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে। কোনো প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের উপর পুলিশের হয়রানির খবর সত্য নয়।

তিনি আরো বলেন, সাজাইল ইউনিয়নের রাইতকান্দি গ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। একটি পুকুর কাটাকে কেন্দ্র করে ভাইদের মধ্যে মারামরিতে ওই সেনা সদস্য আহত হন। তার আবেদনে ঠিকানা ভুল থাকায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি। তাকে আবেদন সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছিল। আবেদন সংশোধন করে আনলে মামলা গ্রহণ করা হবে।

হুমায়ূন কবীর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।