‘হামার কপালেতো ১২ মাসই জুটে পান্তা ভাত’


প্রকাশিত: ১০:৫৭ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৬

‘বছরের প্রায় প্রতিদিন তো হামাকেরে খাবারে পানতা ভাত থাকেই আর ইলিশ মাছ তো কখন খাইছি স্যার মনে আহে না।’ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বাংলা নববর্ষের র‌্যালি যখন কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় অতিক্রম করছিল তখন এর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্রমিক ফুল মিয়া তার অপর সহকর্মীকে এ কথা বলছিলেন।

কান্দিরপাড় এলাকায় প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে শ্রম কেনা-বেচার হাট। এ হাটে শ্রম বিক্রি করতে যারা আসেন এদের অধিকাংশ রংপুর, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

Comilla

জানা যায়, নগরীর বস্তি কিংবা ঝুঁপড়ি ঘরে মাত্র ৪২০ থেকে ৫০০ টাকায় তারা বসবাস করেন। দিন শেষে রাতে নিজেরাই রান্না করে খাবার খায়। কুড়িগ্রামের আবদুল লতিফ জানান, কোনো দিন কাজ পাই, কোনো দিন পাই না, তাই যা জুটে তা দিয়ে দিন চলে যায়।

তিনি হাসতে হাসতে আরো বলেন, আমাদের আর নববর্ষ কি, পান্তা ভাত ইলিশ কি ? পানতা ভাত প্রায়দিনই খাই, তবে ইলিশ কবে খাইছি মনে আহে না।

Exceptiona

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফুল মিয়া জানান, `এলাকায় কাজ নেই, তাই এলাকার এক বড় ভাই কুমিল্লায় নিয়ে আসলে সাতোরা এলাকার একটি ঘরে ৪০০ টাকায় ভাড়া থাকি, কদিন পর পর যা জোগাড় করতে পারি বিকাশে বাড়িতে দেই।’

তিনি আরো জানায়, ‘এই যে আমাদের সামনে দিয়া বাংলা নতুন সনের আনন্দ করে যাচ্ছে লোকজন, তা নিয়ে চিন্তার সময় নেই, এখন পৌনে ১০টা বাজে, কাম (কাজ) পাইনি, দুপুরে পেটে কি দিমু, রাতে কি দিমু, বাড়িত কি পাঠামো এ চিন্তায় আছি। কুড়িগ্রামের লতিফ, চাপাইয়ের ফুল মিয়া কিংবা কুমিল্লার ইসমাইলদের বাড়ি এক এক স্থানে হলেও তাদের অভাবের গল্পটা অভিন্ন।

Exceptional

তারা বুঝে না সরিষা কিংবা পান্তা ইলিশ কি, তারা বুঝতে চায় না নতুন বছরের বৈশাখী ড্রেস কি। তাদের অভাবের সংসার আর কাজ পাওয়া না পাওয়ার টেনশন নিয়ে রাতে ঘুমাতে যায়। আর ঘুম ভাঙে কাজ পাওয়ার স্বপ্ন দেখে, পরিবারের মুখে দুই মুটো মোটা চালের ভাতের টাকা জোগাড় করতেই এভাবে চলে যায়- যাচ্ছে কুদ্দুস আর ফুল মিয়াদের জীবন। নতুন বছরের এসব আয়োজন আনন্দ-উল্লাস তাদের ক্ষুধার কাছে সবই যেন তুচ্ছ।  

কামাল উদ্দিন/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।