সময় পেরিয়ে তিন বছর, ৬৫ শতাংশে আটকে সেতুর কাজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২৬

নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর ওপর কালনা-বিষ্ণুপুর সেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। প্রায় আট বছর আগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো ৬৫ শতাংশে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, নদীঘেঁষা এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ২৬২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালের জুনে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটির কার্যাদেশ দেওয়া হয় আইসিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ২০২২ সালের অক্টোবরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা অসম্পূর্ণ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতু এলাকায় কোনো শ্রমিক নেই। নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। সেতুর সাতটি স্প্যানের মধ্যে পাঁচটি নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর মাঝখানে এখনো ফাঁকা অংশ রয়ে গেছে। আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে ওপরের কাঠামোর কাজ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকে কাজের গতি ছিল ধীর। পরে কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মহিষবাথান ও এনায়েতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

মহিষবাথান এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ধীরগতিতে চলছিল। এখন তো পুরো বন্ধ। কবে শেষ হবে সেটি কেউ বলতে পারছে না।

সময় পেরিয়ে তিন বছর, ৬৫ শতাংশে আটকে সেতুর কাজ

স্থানীয় বাসিন্দা সালেক মিয়া বলেন, জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হলে ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। সেতুটি হলে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হতো।

কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, এখন সময় ও খরচ দুটি বেশি লাগছে। সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে আশপাশের গ্রামের কৃষিপণ্য সহজে বাজারে নেওয়া যেতো। এতে হাজারো কৃষক উপকৃত হবেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সিহাব হোসেন বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির মহাদেবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৈকত দাস বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজে গতি আসেনি। নির্ধারিত মেয়াদের অনেক সময় পার হয়ে গেছে। প্রয়োজনে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।

আরমান হোসেন রুমন/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।