৪৪ বছর পর ফুলমতির খোঁজ নিল প্রশাসন
মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া গাইবান্ধার সাদু্ল্লাপুর উপজেলার বীরাঙ্গনা রাজকুমারী ফুলমতি রবিদাস (৭৩) এর বাড়িতে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর প্রথমবারের মতো একজন জেলা প্রশাসক তার খোঁজখবর নিলেন।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ বুধবার বিকেলে এই বীরঙ্গনা নারীর কাছে গিয়ে তাকে সম্মান জানিয়ে কথা বলেন। এসময় রাজকুমারী ফুলমতি আবেগ আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে তার কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাদুলাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু রায়হান দোলনসহ মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ বীরঙ্গনার শারীরিক ও পারিবারিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে তিনি বীরাঙ্গনা ফুলমতির হাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকার অনুদান তুলে দেন। সেই সঙ্গে তার জন্য দুই কামরা বিশিষ্ট ঘর, গাভী ও খাস জমি বন্দোবস্তসহ বীরাঙ্গনার ছেলে মনিরাজ রবিদাসের জন্য একটি চাকরির আশ্বাস দেন।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রশিদ আজমী জানান, বীরঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ফুলমতি ৪৪ বছর মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। অবশেষে এই সরকার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল।
ফুলমতি বললেন, নিজের জন্য তার কোনো কিছু চাওয়ার নেই। সন্তানরা যাতে ভালো থাকে সেই ব্যবস্থা করা হলে তার ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে বলে তিনি মনে করেন।
৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এক রাতে স্থানীয় এক বিহারী পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগিদের রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর থেকে দীর্ঘদিন পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদররা তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।
বীরাঙ্গনা ফুলমতি উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ফসিরাম রবি দাসের স্ত্রী। তিনি উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে সড়কের ধারে সরকারি খাস জমিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
অমিত দাশ/এমএএস/আরআইপি