নির্বাচনী সহিংসতা : হার্ট অ্যাটাকে নারীর মৃত্যু
পাবনার সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর দক্ষিণ চর গ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেম্বার প্রার্থী সেলিম মণ্ডল এবং বিএনপি সমর্থিত মেম্বার প্রার্থী জহুরুল ইসলাম জিন্নার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের দৃশ্য দেখে জামেনা খাতুন (৫৫) নামে এক নারী মারা গেছেন বলে দাবি বিএনপি সমর্থিক মেম্বার প্রার্থীর। তবে পুলিশের দাবি, ওই নারী ঘটনাস্থল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।
জামেনা খাতুন ওই গ্রামের দারোগ মণ্ডলের স্ত্রী এবং মেম্বার প্রার্থী জহুরুল ইসলাম জিন্নার আত্মীয়। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমএম তাজুল হুদা জানান, জিন্না ও সেলিম মেম্বারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ওসি দাবি করেন, সংঘর্ষের দৃশ্য দেখে নয়, জামেনা খাতুন ঘটনাস্থল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। এর প্রমাণ পুলিশের কাছে রয়েছে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন- ওয়াজেদ আলী (৪৫), খালেক সর্দার (৫০), জালাল (২২), শিলা (২০), গোপাল (৩২), মহিদুল (৩৪), সাইদুল মন্ডল (২০), আলাল সর্দার (৪৫), আবদুল্লাহ আল মামুন (৪০)। বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শনিবার বিকেলে আহম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী জহুরুল ইসলাম রাতে আহম্মদপুর দক্ষিণ চর গ্রামে তার বাড়িতে নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করেন। রাত ৮টার দিকে আ.লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়া ও মেম্বার প্রার্থী সেলিমের কর্মী সমর্থক ৮-১০টি মোটর সাইকেল যোগে এসে সমাবেশের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালান। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ দৃশ্য দেখে জামেনা খাতুন (৫৫) মারা যান।
জহুরুল ইসলাম জিন্না বলেন, তিনি ওই চেয়াম্যানের পক্ষে কাজ না করায় তার সমাবেশে হামলা চালানো হয়েছে।
কামাল হোসেন মিয়া হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, মেম্বার প্রার্থীর লোকজনই হামলা চালিয়ে তার কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুনকে আহত করেছেন। এ সংঘর্ষের জের ধরে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
একে জামান/এনএফ