বিজ্ঞাপনের ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ইকবাল-মুর্শেদীসহ আসামি ১৫
সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী ও বি এইচ হারুণসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করা হয় বলে সংস্থার মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ইকবালের দুই ছেলে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল, পরিচালক শফিকুর রহমান, জামাল গুপ্ত আহমেদ, শায়লা শেলী খান, চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাত, এ এইচ এম ফেরদৌস, নব গোপাল বণিক, এমডি এম রিয়াজুল করিম, ডিএমডি ও ক্রয় কমিটির প্রধান সৈয়দ নওশের আলী, এসভিপি মোশফেক আলম খান এবং মাইন্ডটি লিমিটেডের এমডি ইকবাল আল মাহমুদ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১১ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইকবালের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিজ্ঞাপন প্রচারের অজুহাতে মাইন্ডটি বা মাইন্ডট্রি লিমিটেডের নামে মোট ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৪ টাকা অগ্রিম জমা করা হয়। এই অগ্রিম জমা প্রকৃতপক্ষে আত্মসাতের কৌশল।
দুদকের অনুসন্ধান বলছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা সমন্বয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত অগ্রিম হিসেবে আত্মসাৎ করা ৯৬ কোটি ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকা এখনো অসমন্বিত রয়েছে। আর ২০২০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক। ২০২০ সালে পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
দুদক সূত্র আরও জানায়, প্রতিটি টিভি চ্যানেলে ১০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তি থাকলেও বাস্তবে প্রচার করা হয় মাত্র ৫০ মিনিট। সবমিলিয়ে মোট ২ হাজার ৪০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রচার হয়েছে ১ হাজার ২০০ মিনিট। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ কাজ দেখিয়ে বাস্তবে অর্ধেক কাজ করেই পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের বিল, ভাউচার ও পে-অর্ডার পর্যালোচনায় দুদক দেখতে পায়, পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে মাইন্ডটি লিমিটেডকে প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব ও জাল রেকর্ড তৈরি করে আত্মসাৎ করা হয়।
এসএম/একিউএফ/এমএস