পতনের পাল্লা ভারী হলেও বেড়েছে সূচক, কমেছে লেনদেন
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মতো দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবারও (২৬ জানুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এরপরও বাজারটিতে বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
ডিএসইর মতো অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পরও বাজারটিতেও মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে লেনদেনের শুরুর দিকেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টা সূচক ঋণাত্মকেই থাকে। তবে শেষ ঘণ্টার লেনদেনে বড় মূলধনের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ে। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পরও মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৯টির। আর ৮৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৬টির দাম কমেছে এবং ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪২টির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪১টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সবকটি মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৫৪ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫২৬ কোটি ৫০ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ২২ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- শাহজিবাজার পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স এবং ওরিয়ন ইনফিউশন।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৪টির এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
এমএএস/ইএ