শ্রম আইন সংশোধনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি

তেল, গ্যাস ও খনি খাতের শ্রমিকদের ৫ শতাংশ ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) সুবিধা বাতিল করায় শ্রম আইন সংশোধনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) শ্রমিকপক্ষ।

প্রস্তাবটিকে শ্রমিকস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তীব্র আপত্তি ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে টিসিসির ৯৩তম সভায় এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। এতে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তেল, গ্যাস ও খনি খাতের শ্রমিকদের ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফ সুবিধা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে শ্রম আইন সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে শ্রমিকপক্ষ এর বিরোধিতা করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি ও টিসিসি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ডব্লিউপিপিএফ কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়-এটি শ্রমিকদের আইনগত অধিকার। বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বার্ষিক নিট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণে ডব্লিউপিপিএফ তহবিলে দিতে হয়। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না।

টিসিসির শ্রমিকপক্ষের আরেক সদস্য বাবলু আখতার বলেন, এই সংশোধনী কার্যকর হলে শ্রমিকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হবে। এটি আইনগতভাবে অবৈধ এবং শ্রমিক অধিকারের মূল চেতনার পরিপন্থি। এর ফলে শ্রমিক কল্যাণ, ন্যায্যতা ও সমতার ওপর সরাসরি আঘাত আসবে।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন সামনে রেখে এমন সংবেদনশীল সময়ে হঠাৎ করে শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তাদের মতে, শ্রমিকদের ডব্লিউপিপিএফ অধিকার খর্ব করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) সংশোধনীও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকপক্ষ থেকে একাধিক দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- বিদেশি বিনিয়োগকৃত জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার যে কোনো উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ডব্লিউপিপিএফ সংক্রান্ত যে কোনো পরিবর্তন আইনসম্মত, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নসহ সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে করতে হবে।

নির্বাচন-পূর্ব সময়ে গুরুত্বপূর্ণ শ্রমনীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) সংশোধনীর খসড়া জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। শ্রম বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে ডব্লিউপিপিএফ কমানোর চেষ্টা করা হলে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চাপের মুখে শ্রমিকদের আইনগত অধিকার বিসর্জন দেওয়া যাবে না। জাতীয় শ্রমিকদের নিজেদের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির অংশীজনে পরিণত করার কোনো ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নেব না।

ইএআর/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।