‘উৎসব এলেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি/ছবি: জাগো নিউজ

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে মসলার বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বাড়তি খরচে পড়তে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

ক্রেতাদের অভিযোগ, যখনই কোনো উৎসব আসে তখনই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়।

শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মসলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচের। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকায়। কয়েকদিন আগেও এর দাম ছিল কেজিতে প্রায় ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কম।

এছাড়া দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা। জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা, জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকায়। তেজপাতার দামও বেড়ে কেজিতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় উঠেছে।

jagonews24

একইভাবে শুকনো ফলেরও দাম বেড়েছে। বর্তমানে কিশমিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি। আলুবোখারা ১ হাজার ৪০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং পেস্তা বাদাম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার টাকা কেজি দরে।

আরও পড়ুন
গরুর মাংসের কেজি ৮৫০ টাকা, চড়া মসলার বাজারও
দাম বেড়েছে পেস্তা-চিনা-কাঠবাদামের, মসলায়ও অস্বস্তি
রোজায় কেজিতে বিদেশি ফলের দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা পর্যন্ত

রাজধানীর মগবাজার চারুলুতা বাজারের মসলা ব্যবসায়ী সুলতান বলেন, ঈদের আগে পাইকারি বাজারে মসলার দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। সামনে কোরবানির ঈদের আগে দাম আরও বাড়তে পারে। এখানে খুচরা বিক্রেতারা কোনো সিন্ডিকেট করেনি, বরং পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরায়ও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বাড়ায় মাংস ও মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বর্তমানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা কেজি, যা আগে থেকে প্রায় ৮০ টাকা বেশি। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, যা কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি।

বাজারে মুরগির দামও বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে বাজারে প্রতি ডজন লালডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, সাদাডিম প্রতি ডজন ১০০ টাকা আর হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা ডজন।

মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। পোয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা প্রতি কেজি। তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া গলদা চিংড়ি ছোট আকারের ১ হাজার টাকা এবং বড় আকারের ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা মাছ ৭০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24

মালিবাগ বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মন্টু বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আনতে বেশ বেশি খরচ পড়ছে, বিশেষ করে পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়েছে। গাবতলী পশুর হাটেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিবহন সংকটের কারণে সেখানে গরু তুলনামূলক কম আসছে, ফলে দামও বেড়েছে।

তিনি বলেন, শুধু ঈদের কারণে মাংসের দাম বাড়েনি, এর পেছনে মূলত পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিই বড় কারণ।

এ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মৌসুমী আক্তার বলেন, যখনই কোনো উৎসব আসে তখনই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। রোজার আগে ফলমূল ও খেজুরের দাম বেড়েছিল, আর এখন ঈদের আগে মসলার দাম বেড়েছে, মাংসের দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত আগে থেকেই বাজার মনিটরিং করা। একই সঙ্গে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

ইএআর/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।