রমজান সামনে রেখে জমজমাট বাদামতলীর খেজুর বাজার
রমজানকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার সদরঘাট-বাদামতলী ফল বিক্রয় এলাকায় বেড়েছে খেজুরের বেচাকেনা। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা ফলের বাজার হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় আমদানিকারকদের বেশিরভাগ আড়ত অবস্থিত। তুলনামূলক কম দামে বিভিন্ন জাতের খেজুর পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভিড় করছেন এখানে।
বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল ইসলাম পরিবার ও আত্মীয়দের জন্য খেজুর কিনতে বাদামতলীতে এসেছেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৮ কেজি খেজুর কেনেন। জাগো নিউজকে তিনি জানান, এখানে দাম তুলনামূলক কম এবং এক জায়গায় অনেক ধরনের খেজুর পাওয়া যায়। রমজান উপলক্ষে তিনি এজন্য একসঙ্গে বেশি করে কিনে নিচ্ছেন।
তার মতো আরও অনেক সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ী খেজুর কিনতে আসছেন বলে জানান তিনি।
দরদাম যেমন
আড়ত এলাকায় প্রতি ৫ কেজি প্যাকেটের খেজুরের দাম ধরা হয়েছে মরিয়ম ভিআইপি ৫ হাজার টাকা, কালনি ২ হাজার ৯০০, ফরিদা ১ হাজার ৭৫০, সুক্কারি ১ হাজার ৮৫০, সুফরি ২ হাজার, ছড়া ২ হাজার ২০০, মেভজুল ৫ হাজার ৭০০, মিনিফি ১ হাজার ৮০০, রাবেয়া ২ হাজার ৫০, কালমী ২ হাজার ৬০০, খুরমা ১ হাজার, মরিয়ম জমজম ৪ হাজার ৭০০, মাসরুক ২ হাজার ৩০০, মেভজুল বড় ৭ হাজার ২০০, মেভজুল মাঝারি ৬ হাজার ১০০, মাবরুম ৫ হাজার, সুল্যাস ২ হাজার ৩০০, দুখানী মরিয়া ৪ হাজার এবং মালমী (ভিআইপি) ৩ হাজার ৪০০ টাকা।

৩ কেজি প্যাকেটের মধ্যে আজোয়া ২ হাজার ৭০০, কালমী ২ হাজার ২০০ এবং মাবরুম ২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ১ কেজি প্যাকেটের ক্ষেত্রে মেভজুল বড় ১ হাজার ৫৫০, মেভজুল মাঝারি ১ হাজার ৪০০, মেভজুল ছোট ১ হাজার ৩০০ এবং মাবরুম মাঝারি ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সদরঘাট-বাদামতলী ফল বিক্রয় এলাকার তাওয়াক্কুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন সুমন জাগো নিউজকে বলেন, এই এলাকায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি খেজুরের দোকান রয়েছে। রমজান উপলক্ষে ক্রেতা সংখ্যা বেড়েছে এবং সারাদিনই ব্যস্ততা থাকছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। প্রথম রমজান পর্যন্ত এই ব্যস্ততা থাকবে, এরপর কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, খেজুর বিক্রির সময় সামান্য কমিশনও দেওয়া হয় এবং ফল সমিতি নিয়মিত তদারকি করে।
আছে তদারকি
ওয়াইজঘাট আল-ফেসানী (র.) মার্কেটের রহমত পাকা ফলের আড়ত ও কমিশন এজেন্টের স্বত্বাধিকারী জাকির শেখ জানান, খেজুর ব্যবসায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নির্দেশনা দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ, পঁচা বা দুর্গন্ধযুক্ত খেজুর বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরাসরি মেঝেতে পণ্য রাখা যাবে না; কাঠের তক্তা বা চাটাইয়ের ওপর রাখতে হবে এবং বস্তাবন্দি খেজুর স্বচ্ছ পিপি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যেন মশা-মাছি না বসে। মেয়াদোত্তীর্ণ কোল্ড স্টোরেজে রাখা মাল্টা বা ম্যান্ডারিন বিক্রির আগে সমিতির পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং কোনোভাবেই খাদ্য-অযোগ্য পণ্য বাদামতলী মন্ডিতে বিক্রি করা যাবে না।

এছাড়া, খেজুর পরিমাপের স্কেল বা পাল্লা পরীক্ষা করে ব্যবহার, মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং বিক্রির মেমো বা রশিদ কার্বন কপিসহ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কোনো সময় নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর বা বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করতে পারে। এ কারণে সব ব্যবসায়ীকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য রিফাত হোসেন বলেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে যেন ভেজাল, পচা বা নিম্নমানের খেজুর বিক্রি না হয় সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। ব্যবসায়ীদের গুণগতমান বজায় রাখা, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্রেতারা যেন ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ পণ্য পান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
এমডিএএ/এএমএ