আইপিও অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম

এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার ‘লক-ইন’—এ নতুন নির্দেশনা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৯ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরি‌জ লিমিটেডের লোগো/ফাইল ছবি

এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরি‌জ লিমিটেডের উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডাদের (প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত ১৮৩ জন/প্রতিষ্ঠান) ধারণ করা শেয়ারের ‘লক-ইন’ এর বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করা অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক-ইন সময়ে শেয়ার বিক্রি করা যায় না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যমান লক-ইন অবমুক্তির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছর বা প্রস্তাবিত ৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজের সমাপ্তি ও বাণিজ্যিক ব্যবহার চালু করার (রাজউকের অকুপেন্সি সার্টিফিকেটসহ) মধ্যে যেটি পরে সম্পন্ন হবে ততদিন পর্যন্ত লক-ইন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশ, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৮৩৭তম কমিশন সভায় এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরি‌জ লিমিটেডের ৯৫ কোটি টাকা প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের মাধ্যমে উত্তোলন করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই আইপিও’র মাধ্যমে ৯৫ কোটি টাকা পুঁজি উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যবসায় সম্প্রসারণ (যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ইনস্টলেশন), ফ্যাক্টরি ভবন নির্মাণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে মর্মে কোম্পানিটির প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলন করা অর্থ বা আইপিও ফান্ডের ব্যবহার সম্পন্ন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে, আইপিও ফান্ডের ব্যবহার সম্পন্ন না করেই প্রকল্প মূল্যায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন (রাজউক কর্তৃক বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ইত্যাদি) ব্যতিরেকে এবং পূর্বঅভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছাড়াই কোম্পানিটি ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণের উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন প্রকাশ করে।

৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ তথা রিয়েল এস্টেট/হোটেল ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও কোম্পানিটির সংঘস্মারকের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না। এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পরিদর্শন পরিচালিত হয় এবং ওই পরিদর্শন প্রতিবেদনেও উপরোল্লিখিত অসংগতি উদঘাটিত হয় বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

এদিকে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্যপ্রকাশকারীর সুরক্ষা প্রদান) বিধিমালা, ২০২৬’ এর খসড়া কমিশন সভায় অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদিত খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এমএএস/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।