দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ০৬ মে ২০২৬
এআই দিয়ে তৈরি ছবি

বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ মার্চ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি আরও ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে মোট ঘাটতি ১৯.১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬.৯১ বিলিয়ন ডলার। তবে মার্চ মাস শেষে (জুলাই-মার্চ) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯.১৭ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক মাসেই ঘাটতি বেড়েছে ২.২৫ বিলিয়ন ডলার।

একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩২.৩৮ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫১.৫৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকায় ঘাটতি আরও প্রসারিত হয়েছে।

চলতি হিসাবে ঘাটতি কমেছে

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও চলতি হিসাবে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি কমেছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ১ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চ শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ০.৩৯ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক মাসে ঘাটতি কমেছে ০.৬১ বিলিয়ন ডলার।

চলতি হিসাব একটি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যেখানে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং অন্যান্য চলতি স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত কমেছে

একই সময়ে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত কিছুটা কমেছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৪.০৮ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চ শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ৩.৮১ বিলিয়ন ডলারে।

ট্রেড ক্রেডিটে উদ্বৃত্ত বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেড ক্রেডিটে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে যেখানে উদ্বৃত্ত ছিল ২.৫৬ বিলিয়ন ডলার, সেখানে জুলাই-মার্চ সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.২৩ বিলিয়ন ডলারে।

আরও পড়ুন
৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি
পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৯৪০ কোটি ডলার

ট্রেড ক্রেডিট বলতে বোঝায় পণ্য বা সেবা এখন গ্রহণ করে মূল্য পরে পরিশোধ করা। এটি ব্যালেন্স অব পেমেন্টে স্বল্পমেয়াদি মূলধন প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সার্বিক ভারসাম্যে উন্নতি

সব মিলিয়ে দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে যেখানে উদ্বৃত্ত ছিল ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার, মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৬৫ বিলিয়ন ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে সামনের মাসগুলোতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য আরও স্থিতিশীল হতে পারে।

বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ হেলাল আহমেদ খান জনি জাগো নিউজকে বলেন, দেশের আমদানি নির্ভরতা বাড়তে থাকাই ঘাটতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও এলএনজি, শিল্প খাতের কাঁচামাল এবং ক্যাপিটাল মেশিনারির আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি আমদানিতে উচ্চ ব্যয়, সীমিত উৎপাদন সক্ষমতা এবং রপ্তানির সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত এই সংকটকে তীব্রতর করছে। এর প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়তে পারে, টাকার মান দুর্বল হতে পারে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও আমদানি ব্যবস্থাপনাতেও চাপ তৈরি হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, ঘাটতির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

ইএআর/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।