দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ, বছরে সাশ্রয় ২০১ কোটি টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১০ পিএম, ০৭ মে ২০২৬
ফাইল ছবি

সরকারি মালিকানাধীন নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (নওপাজেকো) দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে পুনর্নির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) বছরে প্রায় ২০১ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নওপাজেকো পরিচালিত সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (ইউনিট-২) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী বিদ্যুৎ ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) অর্থায়নে স্থাপিত এ কেন্দ্রটি ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসে। ২২ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির আওতায় কেন্দ্রটি বাবিউবোর কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫ দশমিক ৬০৪ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ দশমিক ৫৪১ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক ট্যারিফ ২৩ দশমিক ৭৬১ টাকা থেকে কমিয়ে ২৩ দশমিক ৬৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বাবিউবোর বছরে প্রায় ৩১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।

চুক্তির অবশিষ্ট ১৪ বছর ৬ মাস ৪ দিন মেয়াদে এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে গ্যাসভিত্তিক পরিচালনায় আনুমানিক ১৩ হাজার ১০৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক পরিচালনায় ৫৬ হাজার ৬২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে, আর একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নওপাজেকোর ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।  

জাপান সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এ কেন্দ্রটি ২০১৭ সালে উৎপাদন শুরু করে এবং একইভাবে ২২ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় বাবিউবোর কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে।

এ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে গ্যাসভিত্তিক ট্যারিফ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৭২৩২ টাকা থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৬৫০৩ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক ট্যারিফ ২০ দশমিক ৮১৫৯ টাকা থেকে কমিয়ে ২০ দশমিক ৬৯৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে গ্যাসভিত্তিক পরিচালনায় বছরে প্রায় ৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক পরিচালনায় প্রায় ৯৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।

চুক্তির অবশিষ্ট ১৪ বছর ৪ মাস ১৪ দিন মেয়াদে ভেড়ামারা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে গ্যাসভিত্তিক পরিচালনায় আনুমানিক ২০ হাজার ২৫৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক পরিচালনায় ৭৩ হাজার ২১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এমএএস/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।