‘ভ্যাট-কর ফাঁকির চর্চা অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব হবে না’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩২ পিএম, ০৭ মে ২০২৬
ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি এন কে এ মবিন/ছবি: সংগৃহীত

অর্থনীতিতে কর ও ভ্যাট ফাঁকির চর্চা অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি এন কে এ মবিন। তার মতে, বর্তমান বাস্তবতায় রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারকে প্রত্যক্ষ করের ওপর জোর দিতে হবে, যা রাজস্ব আহরণকে টেকসই করবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আইসিএবি ভবনে ‘ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ও রাজস্ব আহরণ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আইসিএবি ও ইংরেজি দৈনিক দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের যৌথ উদ্যোগে এই গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মবিন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং এখন আর কোনো বিকল্প নয়, বরং একটি ভবিষ্যৎ উপযোগী অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য এটি অপরিহার্য।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে আইসিএবি সভাপতি জানান, দেশের অর্থনীতির আকার বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব বাড়ছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকায়। 

তার ভাষ্যে, আসন্ন বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ কোটি টাকার ওপর। 

ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় আইসিএবির ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে মবিন বলেন, এটি রিয়েল-টাইম যাচাইয়ের মাধ্যমে আর্থিক নথিপত্রের জালিয়াতি রোধ করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ডিজিটাইজেশন উদ্যোগে ডিভিএসকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে রাজস্ব আদায় আরও ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাব রাখলে করের হার না বাড়িয়েই অধিক রাজস্ব আদায় সম্ভব। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিংয়ের আওতায় আনলে করের আওতা অনেক বাড়বে। 

ডিজিটাইজেশনের সুফল থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন আইসিএবি সভাপতি। এর মধ্যে রয়েছে—ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব ও পরিবর্তনের প্রতি অনীহা এবং সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা। 

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, এআইয়ের যুগে অ্যাকাউন্টিং অটোমেশনের মূল সহায়ক হিসেবে সিএদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ এবং আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য সাব্বীর আহমেদ।

এসএম/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।