কী আছে ফকিন্নি বাজারে?

আব্দুল্লাহ আল কাউছার
আব্দুল্লাহ আল কাউছার আব্দুল্লাহ আল কাউছার , মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ০৭ মে ২০২৬
রাজধানীর পূর্ব নাখালপাড়ার ফকিন্নি বাজার, ছবি: জাগো নিউজ

মাত্র ১০ টাকায় মেলে সবজি, ২০ টাকায় এক হালি ডিম। ছোট ছোট ভাগে বিক্রি হয় টমেটো, মরিচ, বেগুন, আলু, লাউসহ প্রায় সব ধরনের সবজি। ১০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় সব নিত্যপণ্য। এমনকি ১০ টাকায় সয়াবিন তেলও কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

এসবই পাওয়া যায় রাজধানীর পূর্ব নাখালপাড়ায় রেললাইনের পাশের ‘ফকিন্নি বাজারে’। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাজারটি যেন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।

প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো এই বাজারের নামকরণের ইতিহাসও বেশ ব্যতিক্রম। স্থানীয় দোকানি জাহিদুল হাসান জাগো নিউজকে জানান, কয়েক দশক আগে কয়েকজন ভিক্ষুক ভিক্ষায় পাওয়া চাল, ডাল, পেঁয়াজ-রসুন এবং পাইকারি বাজার থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সবজি এনে এখানে বিক্রি শুরু করেন। সেই সময় বাজারটির প্রধান ক্রেতা ছিল দরিদ্র মানুষ—বিশেষ করে দিনমজুর, ভিক্ষুক, ভ্যানচালক ও রিকশাচালক। তাদের উপস্থিতির কারণেই বাজারটির নাম হয়ে যায় ‘ফকিন্নি বাজার’।

কী আছে ফকিন্নি বাজারে?রাজধানীর পূর্ব নাখালপাড়ার ফকিন্নি বাজার, ছবি: জাগো নিউজ

বিক্রেতা বিল্লাল হোসেন বলেন, বাজারের বেশিরভাগ পণ্য আসে পাশের কারওয়ান বাজার থেকে। দিনের শেষে অবিক্রীত বা ফেলে দেওয়া সবজি সংগ্রহ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর কম দামে বিক্রি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা কম লাভে বিক্রি করি। অনেক মানুষ আছে যারা ৫০ বা ১০০ টাকার বেশি বাজার করতে পারেন না। তাদের জন্যই এই বাজার।’

তবে সময়ের সঙ্গে নানা প্রতিকূলতার মুখেও পড়তে হয়েছে এই বাজারকে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের সময় ভেঙে ফেলা হয় এখানকার অনেক দোকান। এতে জীবিকা হারানোর শঙ্কায় পড়েন বিক্রেতারা। কিন্তু থেমে থাকেননি তারা। ভাঙাগড়ার সেই সময় পার করে আবারও গড়ে তোলেন ছোট্ট এই বাজার।

বর্তমানে বাজারটিতে ২০ থেকে ২৫টি দোকান রয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক দফা বেচাকেনা চলে। পরে বিরতি দিয়ে আবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জমে ওঠে বাজার।

কী আছে ফকিন্নি বাজারে?রাজধানীর পূর্ব নাখালপাড়ার ফকিন্নি বাজার, ছবি: জাগো নিউজ

ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই কম দামে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই তারা ফকিন্নি বাজারে আসেন।

এক ক্রেতা বলেন, ‘বড় বাজারে গেলে ২০০ টাকায় যা পাওয়া যায়, এখানে একই টাকায় অনেক বেশি জিনিস কেনা যায়। অল্প আয়ের মানুষের জন্য এই বাজার অনেক উপকার করছে।’

বিক্রেতাদের দাবি, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে ক্রেতার ধরনও। আগে যেখানে রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ভিক্ষুকদের উপস্থিতি ছিল বেশি, এখন সেখানে ভিড় করছেন মধ্যবিত্তরাও।

আব্দুল্লাহ আল কাউছার/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।