আ’লীগের ভুলনীতির কারণে অর্থনীতির ভিত্তি ভেঙে পড়েছিল: মাসরুর রিয়াজ
আওয়ামী সরকারের ভুলনীতি, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি ও প্রবৃদ্ধি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. এম মাসরুর রিয়াজ।
আসন্ন বাজেট প্রণয়নে চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর রিয়াজ।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের এফডিসিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল জানিয়ে ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সুশাসনের ঘাটতির ফলে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সে সময় বেসরকারি বিনিয়োগ, রপ্তানি বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অন্যান্য অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চাকা একেবারে শ্লথ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে এই ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, মেগা প্রকল্পে চুরির কারণে ছোট ছোট প্রকল্পের দুনীর্তি নিয়ে আলাপ কম হচ্ছে। রাজনৈতিক বিবেচনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড সঠিকভাবে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো গেলে অবশ্যই এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করবে। এতে ঋণের বোঝা বাড়বে না।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন আইসিইউতে। পরিস্থিতি উত্তরণে আসন্ন বাজেট হতে হবে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও বাস্তবায়নযোগ্য। বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকতে হয়। প্রত্যেকটি বাজেটে উন্নয়ন দর্শন ও নীতিগত দিক নির্দেশনা থাকা উচিত। আমাদের দেশে বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ব্যতিত বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, সততা, নিষ্ঠা, ন্যায়পরায়নতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে অর্থনীতির গতি সঞ্চালন ফিরিয়ে আনতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।
তার ভাষ্যে, ঢালাওভাবে জব্দ হওয়া ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া উচিত। বন্ধ হওয়া কলকারখানা দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখোমুখি সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত।
কিরণ আরও বলেন, বর্তমান আর্থিক মন্দা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আসন্ন বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা উচিত। তবে ভর্তুকি হতে হবে লক্ষ্যভিত্তিক। অনন্তকাল ধরে কোনো কোনো খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে তা অন্যান্য খাতকে নিরুৎসাহিত করা হবে। কৃষি, সেচ, সার, গণপরিবহন, এসএমই খাতের মতো খাতসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ভর্তুকিতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এসএম/এমএমকে