ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস খোলা যাচ্ছে বিকাশ অ্যাপে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশিত: ০৭:১৩ পিএম, ১২ মে ২০২৬
বিকাশ অ্যাপে এবার যুক্ত হলো ইস্টার্ন ব্যাংকের মাসিক ডিপিএস সেবা

চার ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর বিকাশ অ্যাপে এবার যুক্ত হলো ইস্টার্ন ব্যাংকের মাসিক ডিপিএস সেবা। আর্থিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে টেকসই করার লক্ষ্যেই বিকাশ তার প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিপিএস সেবা সংযুক্ত করেছে।

ডিজিটাল সেভিংস সেবায় আস্থা রেখে গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত খুলেছেন ৬০ লাখের বেশি ডিপিএস। বিকাশ অ্যাপের ডিজিটাল সেভিংস সেবায় নতুন যুক্ত হওয়া ইস্টার্ন ব্যাংকে ৬ মাস থেকে ৪ বছর মেয়াদে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমানো যাচ্ছে।

যেভাবে খোলা যাচ্ছে ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস

নতুন ডিপিএস খুলতে বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ আইকনে ক্লিক করে ‘নতুন সেভিংস খুলুন’-এ ট্যাপ করতে হবে। সেভিংসের ধরন থেকে ‘সাধারণ সেভিংস’ বেছে নিয়ে ডিপিএসের ধরন (মাসিক), মেয়াদ- ৬ মাস বা ১/২/৩/৪ বছর ও প্রতি মাসে কত টাকা জমাতে চান তা নির্বাচন করতে হবে।

পরের ধাপে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকের তালিকা থেকে ইস্টার্ন ব্যাংক বেছে নিয়ে সেভিংসের নমিনি সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। তারপর সেভিংসের বিস্তারিত দেখে এবং নিয়ম ও শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে, বুঝে সম্মতি দিতে হবে। সবশেষে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন দিয়ে স্ক্রিনের নিচের অংশ ট্যাপ করে ধরে রাখলেই ডিপিএসের আবেদন সম্পন্ন হবে। প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে বিকাশ ও ব্যাংক থেকে চলে আসবে নিশ্চিতকরণ মেসেজ। বিকাশ অ্যাপ থেকে যে কোনো গ্রাহক একাধিক ডিপিএস খুলতে পারবেন।

বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় ব্যাল্যান্স থাকা সাপেক্ষে নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপিএসের টাকা কেটে নেওয়া হয়। ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাবার পর বিকাশ অ্যাপেই মুনাফাসহ মূল টাকা পেয়ে যাবেন গ্রাহক, যা কোনো খরচ ছাড়াই ক্যাশ আউট করা যায়।

জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদপূর্তির আগেই ডিপিএস ভাঙতে চাইলে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর গ্রাহক তা বিকাশ অ্যাপ থেকেই করতে পারবেন।

আরও পড়ুন
সর্বজনীন পেনশনের পরিধি বাড়াতে ১০০ মিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি 
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগিয়ে যেতে সংস্কার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার 

এ বিষয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিএমডি এবং রিটেইল ও এসএমই ব্যাংকিং প্রধান এম খোরশেদ আনোয়ার বলেন, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ইবিএল ডিপিএস খোলার এই উদ্যোগ দেশজুড়ে গ্রাহকদের জন্য সঞ্চয়কে আরও দ্রুত, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই যৌথ উদ্যোগের ফলে গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপ থেকে সহজ, দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে ইবিএল ডিপিএস খুলতে পারবেন। এর মাধ্যমে ইবিএল আরও বৃহত্তর গ্রাহকশ্রেণির কাছে সঞ্চয়সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাবে, যা উদ্ভাবনী ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে টেকসই আমানত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য আরও শক্তিশালী করবে।

বিকাশের চিফ কমার্সিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, বিকাশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই ধরনের নিবিড় সহযোগিতা ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা সীমিত সেবা পাওয়াসহ সবার জন্য আর্থিক সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছে, যা দেশের ডিজিটাল লেনদেনের ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, কৃষক, গৃহিণী, শিক্ষার্থী, এমনকি প্রান্তিক এলাকার নাগরিকরাও বিকাশ অ্যাপে ডিপিএস খুলছেন। বিকাশ তার গ্রাহকবান্ধব মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আর্থিক খাতে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে, যা সমাজের সব স্তরের মানুষকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঞ্চয়ে সক্ষম করে তুলেছে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।

২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিকাশের ডিজিটাল সেভিংস সেবা। পর্যায়ক্রমে এতে যুক্ত হয়েছে ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি যুক্ত হলো ইস্টার্ন ব্যাংকের মাসিক ডিপিএস সেবা।

বিকাশ অ্যাপ থেকে যেসব ডিপিএস খোলা হয়েছে, তার প্রায় ৩৪ শতাংশই খুলেছেন নারীরা। আবার বিকাশ অ্যাপে খোলা ৫৫ শতাংশ ডিপিএসই খোলা হয়েছে ব্যাংকিং সময়ের বাইরে। অর্থাৎ, গ্রাহকরা নিজের সুবিধামতো সময়ে সঞ্চয়ের মতো আর্থিক সেবা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এক জরিপে দেখা গেছে, যেসব গ্রাহকের ডিপিএসের মেয়াদ এরই মধ্যে পূর্ণ হয়েছে, তাদের ৯৬ শতাংশই আবার বিকাশ অ্যাপে পুনরায় ডিপিএস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কেএসআর/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।