বাণিজ্যমন্ত্রী

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগিয়ে যেতে সংস্কার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ১২ মে ২০২৬
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির/ফাইল ছবি

ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, ব্যবসা সহজীকরণ এবং এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে সরকার নানাবিধ সংস্কার পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (১২ মে) সরকারি-বেসরকারি সংলাপ প্ল্যাটফর্ম বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফায়ার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং চেম্বার সদস্যপদসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ১২ মাসের জন্য অস্থায়ী লাইসেন্স দেওয়া হবে, যেন ব্যবসা শুরু করতে অযথা বিলম্ব না হয়।

বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ বিষয়ে তিনি বলেন, যে কোনো খাত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে এলে সরকার তা বিবেচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার পাট খাতের উন্নয়নে বিল্ড-এর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং এক্ষেত্রে কাঁচা সবুজ পাট থেকে জুট পাল্প উৎপাদন একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হতে পারে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সমন্বিত করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে একটি একক ছাতার অধীনে আনার পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এ বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সাক্ষাৎকালে বিল্ড চেয়ারপারসন আবুল কাশেম খান বলেন, ধূসর অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আরও বেশি ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে আসার জন্য নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বর্তমান ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে ‘ওয়ান লাইসেন্স’ পদ্ধতিতে রূপান্তর জরুরি। তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় তিনি পাঁচ বছরের কর অব্যাহতিরও প্রস্তাব দেন।

তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সংস্কার নিয়ে বিল্ড বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে এবং শিগগির এসব প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বিল্ড চলতি বছরের শেষে একটি ‘পলিসি সামিট’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে আগামী দশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হবে।

বিল্ড-এর ট্রাস্টি এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরান টি. রহমান বলেন, পাট খাত এখনো জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, তবে এ খাতের জরুরি আধুনিকায়ন প্রয়োজন। পাটশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনের মাধ্যমে দক্ষতা ও মূল্য সংযোজন বাড়াতে হবে, যেন ভবিষ্যতেও এটি লাভজনক ও টেকসই শিল্প হিসেবে টিকে থাকতে পারে।

বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম পণ্যের ট্রেসেবিলিটির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের ট্রেসেবিলিটি এখন আর ঐচ্ছিক নয়; বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে এটি বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক টেকসই মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে একটি শক্তিশালী জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কৌশল অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় শিল্পকে সহায়তা করতে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যকে কাজে লাগিয়ে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া উচিত।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে উৎপাদন খাতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রায় ২৩ ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। শিল্পখাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যবসায়ীদের ওপর এই অতিরিক্ত চাপ কমানো জরুরি।

আইএইচও/এমকেআর 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।