বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৈষম্যের শিকার

মো. নাহিদ হাসান
মো. নাহিদ হাসান মো. নাহিদ হাসান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৩ এএম, ২০ মে ২০২৬

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য বা সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বড় বাধা কোথায়? ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনে সরকারের পদক্ষেপই বা কী হবে? অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। তাহলে কি বিদ্যুৎখাতে পুরোনো পথেই হাঁটছে সরকার?

এসব নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ও ড্যাফোডিল ইটারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম শামসুল আলম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মো. নাহিদ হাসান

জাগো নিউজ: বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য বা সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বড় বাধা আপনার কাছে কী মনে হয়?

ড. এম শামসুল আলম: সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে সরকারের পলিসি এবং ফসিল ফুয়েল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রধান্য দিয়ে ভর্তুকিতে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ বৈষম্যের শিকার। বিদ্যুতের বাজার অসম। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ডেভেলপ করা হয়নি। বাজার অসম রাখা হয়েছে। সেখানে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাজার।

জাগো নিউজ: ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জনের সক্ষমতা সরকারের লক্ষ্য। এটি অর্জনে সরকারকে কোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে?

ড. এম শামসুল আলম: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবে। সঠিকভাবে সরকারের বিদ্যুতের ট্যারিফ বা ক্রয়মূল্য নির্ধারণের সক্ষমতা থাকতে হবে। লুণ্ঠনমূলক ব্যয় কমানোর জন্য এসব প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে জনগণকে।

রিনিউয়েবল এনার্জির মূল্য বিইআরসির মাধ্যমে নির্ধারণ করার কথা, সরকার সেটি করে না। সুতরাং, ব্যয় সমন্বয় করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এই সেক্টর থেকে তুলে দিতে হবে ট্যাক্স-ভ্যাট।

আরও পড়ুন

নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ২.৩ শতাংশ, বেড়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি
সূর্যালোক কম থাকলেও অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে যাচ্ছে
নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব, লাভবান চীন

নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নের দায়িত্ব ডেসকো-ডিপিডিসির, যারা ফসিল ফুয়েল বিদ্যুতের ব্যবসা করে এদের ওপর ছাড়া যাবে না। তাদের কাছে যদি এটির উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে এটি বিমাতা বা সৎমায়ের কাছে সন্তান বড় করার দায়িত্ব দিলে যেমন হয় তেমন হবে।

জাগো নিউজ: অন্তর্বর্তী সরকার ছয় বিলিয়ন ডলারের ৩১টি নবায়যোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের এলওআই বাতিল করেছিল। বর্তমান সরকার এটিকে ফের যাচাই-বাছাই করার জন্য কমিটি গঠন করেছে এবং উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপনার অভিমত কী?

ড. এম শামসুল আলম: প্রথমত ট্যারিফ হলো মূল কনসার্ন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩১টি প্রকল্প বাতিল করা হয়। তখন জনগণ সেটা ভালোভাবে নিয়েছিল। কারণ আগের সরকারের সময় বেশি বেশি মূল্যে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ধরে কিছু প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে লাভবান করা হয়েছিল।

ন্যায্য ও যৌক্তিক ট্যারিফে কোনোভাবেই বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে সাড়ে ৭ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। ভারতে যেখানে সৌরবিদ্যুতের দাম ৩ টাকা ৬০ পয়সার আশপাশে, পাকিস্তানে ২ টাকা ৮০ পয়সা, সেখানে বাংলাদেশে আমরা সাড়ে ৭ টাকা বলছি। এই দামেই বিদ্যুৎ পাওয়া উচিত

এরপর অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো বাতিল করে কম দামে, ন্যায্যমূল্যে যৌক্তিকভাবে দরপত্র আহ্বান করে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী সিলেকশন করবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সেটা পূরণ করতে পারেনি। বর্তমান সরকার যদি সেটা করতে পারে তাহলে প্রত্যাশার প্রতিফল ঘটবে। যাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ট্যারিফ নির্ধারণ হবে।

আমরা তখনও বলেছিলাম জমির মূল্য ধরে পাওয়ার প্ল্যান্টে যেন বিনিয়োগ না হয়। জমি যদি সরকার দিতে পারে, সেই জমির মূল্যের ব্যুরোক্রেটিক ক্যালকুলেশন (আমলাতান্ত্রিক হিসাব-নিকাশ) হবে না। এই বিষয়গুলো বর্তমান সরকার কীভাবে সংস্থান করতে পারবে সেটিই দেখার বিষয়। ডলারে বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করা যেন না হয়—এটাই মূল কথা।’

ন্যায্য ও যৌক্তিক ট্যারিফে কোনোভাবেই বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে সাড়ে ৭ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। ভারতে যেখানে সৌরবিদ্যুতের দাম ৩ টাকা ৬০ পয়সার আশপাশে, পাকিস্তানে ২ টাকা ৮০ পয়সা, সেখানে বাংলাদেশে আমরা সাড়ে ৭ টাকা বলছি। এই দামেই বিদ্যুৎ পাওয়া উচিত। এরপরেও যদি বর্তমান সরকার আগের সরকারের দেখানো পথে হাঁটে তা দুর্ভাগ্যজনক হবে।

এনএস/এএসএ/এমএফএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।