ঋণ পুনঃগঠন নীতিমালা চূড়ান্ত, ৩০ জুনের মধ্যে আবেদন
৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের ঋণ ১২ বছরের জন্য পুনঃগঠনের সুযোগ দিয়ে ঋণ পুনঃগঠন নীতিমালা চুড়ান্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুযোগ পেতে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ব্যবসায়িদের নিজে বা প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে আবেদন করতে হবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নীতিমালাটি অনুমোদন দিয়েছে বলে পর্ষদ সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র বলছে, মঙ্গলবার নীতিমালাটি আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়। এর আগে গত বুধবার এটি চুড়ান্ত করা হয়। খুব শিগগিরই নীতিমালাটি সার্কুলার আকারে জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি মুখপাত্র এএফএম আসাদুজ্জামান।
সূত্র বলছে, নীতিমালার আওতায় একজন ব্যবসায়ি বা গ্রুপ একবার এই সুযোগ পাবেন। দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যেসব ব্যবসায়ি বা প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধ করতে অসমর্থ হয়েছেন তাদের সহায়তা দিতে এবং ব্যাংকগুলোর পুরনো ঋণ আদায় নিশ্চিত করতে মূলত নীতিমালাটি করা হয়েছে। এর আগে ২০০২ সালে একই ধরনের নীতিমালা করা হয়েছিলো।
এসব ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণও থাকতে পারে। আবার কিছু চলমান ঋণও পুনর্গঠনের আওতায় আসতে পারে। নীতিমালা অনুসারে ঋণগুলো পুনঃগঠন করতে ব্যাংকের পর্ষদ এককালীন জমা বা ডাউন পেমেন্টের হার নির্ধারণ করবে। তবে তা কমপক্ষে মোট ঋণের ১ শতাংশ হতে হবে।
পর্ষদের নির্দেশনা অনুসারেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এস এম রবিউল হাসানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
সূত্র জানায়, কমিটি চারটি বিষয়কে পুনর্গঠনের নীতিমালাতে প্রাধান্য রেখে প্রস্তাব হাজির করে। এগুলো হলো- ঋণ পরিশোধের সময়, এককালীন জমা বা ডাউন পেমেন্ট, গ্রেস বা মেরেটরিয়াম পিরিয়ড ও সুদের হার।
একবারের বেশি এ সুযোগ কেউ নিতে পারবে না। আবার পুনর্গঠনের সুযোগ নেওয়ার পর যদি কোনো গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান নিয়ম মতো ব্যাংকের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে দেউলিয়া আদালতে যাবে।
বলা হচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদে গত ২১ ডিসেম্বর দেশের শীর্ষ ২০ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঋণের তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছিল। জানা গেছে, এদের কাছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বা দেশের মোট ঋণের ১০ ভাগের মতো রয়েছে। এই ২০ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে থাকা ঋণের আড়াই শতাংশের মতো ঋণ খেলাপি হয়ে আছে।
এসএ/আরএস