শেয়ারের দর বাড়াতে জালিয়াতি করেছে অলটেক্স


প্রকাশিত: ১০:০৪ এএম, ১৮ মার্চ ২০১৫

আর্থিক প্রতিবেদনে বড় জালিয়াতি করেছে অলটেক্স ইন্ডস্ট্রিজ। মিথ্যা তথ্য দিয়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বাড়িয়েছে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ অনুসন্ধানে এ তথ্য বেড়িয়ে এসেছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিএসইসি গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে এমন তথ্য ওঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর।

অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ অনুসন্ধানে বিএসইসির ৫৩৫তম কমিশন সভায় তদন্ত কমিটি গঠন করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কমিটির দায়িত্বে ছিলেন বিএসইসির উপ-পরিচালক মোল্লাহ মিরাজ উজ সুন্নাহ ও সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুর রহমান।

জানা যায়, বকেয়া ঋণের বিপরীতে ঋণের সুদ ১৭ কোটি টাকার সমন্বিত সুদ হিসেবে আয়-ব্যয় খাতে না দেখিয়ে তা সম্ভাব্য দায় হিসেবে দেখিয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার পরিমাণ বাড়ে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার গত বছর যেখানে অভিহিতমূল্যে অর্থ্যাৎ ফেইসভ্যালুর নিচে লেনদেন হয়। এ বছরের শুরুতে তা হঠাৎ করে অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে। হঠাৎ করেই বাড়ায় বিষয়টি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নজরে আসে। এর পেক্ষিতে অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করে বিএসইসি।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে শেয়ারটি ২১ থেকে ২২ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। চার মাস আগেরও শেয়ার দর ফেইসভ্যালুর ১০ টাকার নিচে ছিল। জানুয়ারিতে তা ৩৫ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এদিকে গত ৫২ সপ্তাহে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে টাকা ৩৮ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত।

বিএসইসি সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে দেখা যায় ২০১৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক উল্লেখ করেছেন, নিরীক্ষাকালে কোম্পানির ১৭২ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা বকেয়া ঋণের বিপরীতে ঋণের সুদ হয় ১৭ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা সমন্বিত সুদ হিসেবে আয়-ব্যয় খাতে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। তবে তা সম্ভাব্য দায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর নিরীক্ষকের মতে, এতে এ হিসাব বছরে কোম্পানির মুনাফার পরিমাণ বেড়েছে ১৭ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও ইপিএস ৩ টাকা ৬৪ পয়সা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ১৮ নম্বর নোটে কোনো সম্ভাব্য দায় নেই বলে উল্লেখ করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তাই ঋণের সুদ ব্যয় দেখানো হলে মুনাফার পরিবর্তে বড় অঙ্কের লোকসানে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানায়, ঋণের সুদের টাকা সুদ হিসেবে আয়-ব্যয় খাতে না দেখিয়ে তা সম্ভাব্য দায় হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ে। যা কোম্পানি আইনের লঙ্গণ।

প্রতিষ্ঠানটি অর্ধবার্ষিকী (জুলাই`১৪ -ডিসেম্বর`১৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইপিএস করেছে ১ টাকা শূন্য ১ পয়সা। আর কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ২ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৪৯ পয়সা।

এসআই/এসএ/আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।