আড়াই মাসে মূলধন নেই সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা
চলতি বছরের প্রথম দিন থেকেই দেশে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। চলমান সংকটে দেশের অন্যান্য খাতের মতোই ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। অনিশ্চিয়তায় ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। কমেছে সব ধরনের সূচক। পতন ঘটছে ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। যার প্রভাবে গত আড়াই মাসে দেশের পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন হাড়িয়েছে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।
৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি জোটের টানা অবরোধ-হরতালে আড়াই মাসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ১৪ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪১৭ পয়েন্ট। আর গত বছরে যেখানে টাকার অংকে গড়ে লেনদেন ৩৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা ছিল এখন তা নেমে এসেছে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকায়।
সর্বশেষ ২৫ মার্চ বুধবার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৫ জানুয়ারি ঢাকা স্টক একচেঞ্জে যেখানে বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮০১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আড়াই মাসের ব্যবধানে তা নেমে এসেছে ৩ লাখ ১৪ হাজার ১৭৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়। অর্থাৎ চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় আড়াই মাসে মূলধন কমেছে ১৪ হাজার ৬২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজার মূলধন ছিল ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ৩ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকায়।
৫ জানুয়ারি ঢাকার শেয়ারবাজারে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল চার হাজার ৯২৬ পয়েন্ট। সর্বশেষ ২৫ মার্চ বুধবার সেখানে নেমে এসেছে চার হাজার ৫০৯ পয়েন্টে। অর্থাৎ আড়াই মাসের ব্যবধানে সূচক কমছে ৪১৭ পয়েন্ট। অন্যান্য সূচকেরও একই অবস্থা। আলোচ্য সময়ে শরীয়াহ সূচক ডিএসইএস ৮০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৬ পয়েন্ট ও ডিএস৩০ সূচক আড়ায় মাসে ১৩১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বর্তমানে ডিএসইতে মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশে অবস্থান করছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতায় আলোচ্য সময়ে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেরও (সিএসই) একই চিত্র। আড়াই মাসে সিএএসপিআই সূচক কমেছে এক হাজার ৩৬২ পয়েন্ট। সিএসই৩০ সূচক কমেছে ৯২৪ পয়েন্ট। আর সিএসইএক্স সূচক কমেছে ৭৯৩ পয়েন্ট। এসময় সিএসই বাজার মূলধন হাড়িয়েছে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। গত ৫ জানুয়ারি ২৬৪ কোটি ৪৩ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধন ছিল। ২৫ মার্চ তা নেমে এসেছে ২৪৮ কোটি ৮৫ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকায়।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা অনিশ্চয়তার কারণে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন। আর প্রাতিষ্ঠিানিক বিনিয়োগকারীরাও আগের মতো সক্রিয় নয়। যার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে পুঁজিবারের নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শুরু পুঁজিবাজার নয়, ভালো নেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির অবস্থা। আর রাজনৈতিক দীর্ঘ মেয়াদি স্থিতিশীলতা না আসলে এ থেকে উত্তোরণও সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে বাজার অস্থিতিশীল রয়েছে। ফলে বাজারের অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অভিহিত মূল্যর (ফেইসভ্যালু) কম আবার বেশকিছুর দর ফেইসভ্যালুর কাছাকাছি অবস্থান করছে। মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১০ শতাংশের নিচে অবস্থান।
এছাড়াও বাজারের সার্বিক পিই রেশিও ১৬ শতাংশের ঘরে অবস্থান করছে। সব মিলিয়ে বাজার এখন বিনিয়োগের উপযোগী বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে এখন কোম্পানি দেখে শুনে ও বুঝে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।
এসআই/বিএ/পিআর