প্যাকেজিং খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
প্যাকেজিং খাতের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের নীতিসহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ‘প্যাকেজিং খাত আরও বিকশিত করতে সরকার কাজ করবে। কোনো জায়গায় কী ধরনের নীতিসহায়তা প্রয়োজন, তা পরিকল্পনা করে সরকারকে জানাতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবো। আমরা চাই এ খাত আরও বড় হোক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং দেশের পণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করুক।’
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। যৌথভাবে এ এক্সপো আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএফপিআইএ) ও এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড।
দেশে ব্যবসা শুরু করতে ২৫-২৬ জায়গায় যাতে যেতে না হয় সেজন্য প্রভিশনাল লাইসেন্স বা ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হবে বলে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি ব্যবসা শুরু করতে দেশি বা বিদেশি কোম্পানিকে বর্তমানে ২৫-২৬ ধরনের লাইসেন্স ও অনুমোদন নিতে হয়। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে কোনো কোম্পানি বিডায় নিবন্ধন করলে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদনের জন্য একটি প্রভিশনাল লাইসেন্স বা ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হবে, যাতে ব্যবসা শুরু করা সহজ হয়।’
লজিস্টিক ব্যয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে এ খাতে ব্যয় অনেক বেশি। যেখানে বিশ্বে গড়ে লজিস্টিক কস্ট জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের বন্দরগুলোর দক্ষতা কম। ফলে ইউনিটপ্রতি ব্যয় বেড়ে যায়। লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রমেও গতি কম। এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনা হচ্ছে।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একটি ড্যানিশ কোম্পানি এরই মধ্যে একটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে আরও টার্মিনালে আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত করে বন্দরের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ অনেক। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৮-৪০টা বড় বড় শিল্প আছে। একেকটা জায়গার পরিমাণ ৫ থেকে ১০ হাজার বিঘা। কোনো কোনোটা ৩ হাজার ৩.৫ হাজার একরের ওপর বসে আছে। সব লোকসানি, লাভ হয় না কোনোটায়। একইভাবে জুট এবং টেক্সটাইল মিনিস্ট্রির আন্ডারে আরও ৫০টা ফ্যাক্টরি আছে। তার কয়েকটা প্রাইভেট সেক্টরে চলছে, আর বাদবাকিগুলো সেগুলোর প্রক্রিয়াধীন আছে।
অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফপিআইএর সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আব্দুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এক্সপোতে ১২টি দেশের ১৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ৩২০টি স্টলে প্যাকেজিং, প্রিন্টিং, প্রসেসিং ও শিল্প প্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিন দিনে ১০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইএইচটি/এমএএইচ/