সংবাদপত্রের কাগজ আমদানিতে কর প্রত্যাহারের দাবি
সংবাদপত্রের কাগজের (নিউজপ্রিন্ট) উপর ৫ শতাংশ আমদানি কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। একই সঙ্গে সেবামূলক শিল্প হওয়ায় সংবাদ পত্রের উপর সব ধরনের ভ্যাট প্রত্যাহার চায় সংগঠনটি।
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এবিআর) এর সম্মেলন কক্ষে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনায় সংগঠনের সভাপতি ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান এ দাবি জানায়।
নোয়াব সভাপতি বলেন, নিউজপ্রিন্ট পত্রিকা হিসেবে বিক্রি হওয়ার আগে কাঁচামাল হিসেবে মুদ্রণ, সংযোজন, কাটিংসহ নানা ধাপ পেরিয়ে আসে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হওয়ায় এ কাগজে এক সময় কোনো শুল্ক ছিলো না। বর্তমানে এ কাগজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। অলাভজনক ও সেবামূলক শিল্প হিসেবে সংবাদপত্রের সব কাগজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা দরকার।
তিনি বলেন, সংবাদপত্রের কাঁচামাল নিউজপ্রিন্টে বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। প্রিন্ট ও কাগজ ক্রয়ে যে খরচ হয় তার ৩০ শতাংশ পাওয়া যায় বিক্রিতে। সংবাদপত্র শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ মানবকল্যাণমুখী শিল্প হওয়ায় তাকে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা দরকার।
বিজ্ঞাপণে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি করে মতিউর রহমান আরো বলেন, যে কোনো বিজ্ঞাপণে অগ্রিম আয়কর দিতে হয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। অগ্রিম আয়কর দেওয়ার পর অনেকেই তাদের বিল পান না। আবার বছর শেষে কর পরিশোধ করলেও অনেক সময় সমন্বয় হয় না। ফলে হয়রানি ও লোকসানের শিকার হতে হয় সংবাদপত্রকে। তাই এ শিল্পের অগ্রিম আয়করও প্রত্যাহার করা দরকার।
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, সংবাদপত্র প্রকাশ ও কাঁচামাল নিউজপ্রিন্ট ক্রয়ে মোট ব্যয়ের ৭০ শতাংশ খরচ মালিকদের। এমতাবস্থায় নিউজপ্রিন্টের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করলে কিছুটা সুযোগ পাবেন সংবাদপত্র মালিকরা।
সমকাল পত্রিকার মালিক এ কে আজাদ বলেন, বড় বড় পত্রিকাগুলো বিদেশ থেকে কম শুল্কে কাগজ আমদানি করে পত্রিকা বের করে। আর ছোট ছোট পত্রিকাগুলো বেশি দামে দেশিয় নিউজপ্রিন্ট কিনে পত্রিকা বের করে আবার কম দামে বিক্রি করতে হয়। তাই তাদের বিশেষ সুবিধা দিতে হবে।
ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কর না দিলে সরকার টিকবে না। তবে সংবাদপত্র থেকে কর নিলে আবার সংবাদপত্র টিকবে না। মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় বিধায় এ শিল্পে কর প্রত্যাহার দরকার।
মানব জমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান খান বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক সমস্যার কারণে সংবাদপত্র শিল্পের ভালো সময় যায়নি। অনলাইন ও টেলিভিশনের কারণে সংবাদপত্রের বিক্রিও কমে এসেছে। এমতাবস্থায় এ শিল্পে সব ধরনের কর মওকুফ দরকার।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ এনাম, প্রকাশক এ কে আজাদ, ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও নোয়াবের উপদেষ্টা আক্তার হোসেন খানসহ বিভিন্ন মিডিয়া ব্যাক্তিরা।
এসআই/আরএস