বিকাশের ২৮৮৭ এজেন্টের অন্য সব অ্যাকাউন্টও বন্ধের নির্দেশ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩৭ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৭

অবৈধভাবে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় প্রেরণের নেপথ্যে রয়েছে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭ এজেন্ট। তাই অভিযুক্ত এজেন্টগুলোর অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার এসব এজেন্টের নামে অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলেও তাও বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি ১৭টি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সম্প্রতি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নির্দেশনা লঙ্ঘন করায় বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭ এজেন্টের লেনদেন স্থগিত করে। অবৈধভাবে রেমিট্যান্স প্রেরণ, অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে এসব এজেন্টের বিরুদ্ধে। ফলে উল্লেখযোগ্য হারে কমে বৈধপথে রেমিট্যান্স আহরণ। এসব কারণে বেনামে হিসাব পরিচালনা করায় ৮০ হাজার এজেন্টের ছয় লাখ হিসাবের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিএফআইইউ সূত্র জানায়, দুই হাজার ৮৮৭টি এজেন্ট অ্যাকাউন্ট মূল টার্গেট। অবৈধভাবে রেমিট্যান্স প্রেরণে বিকাশের অ্যাকাউন্ট দিয়ে লেনদেন করা হয়েছে। তাদের যদি অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে সেই অ্যাকাউন্ট দিয়েও রেমিটেন্স হুন্ডি করা হয়েছে এটাই স্বাভাবিক। তাই ওই এজেন্টের নামে অ্যাকাউন্ট থাকলে তা বন্ধ করে বিএফআইইউকে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়েছে।

এর আগে বিএফআইইউ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নির্দেশনা লঙ্ঘন করায় বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭ এজেন্টের লেনদেন স্থগিত করে। একই সঙ্গে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কয়েকটি (কতিপয়) হিসাবের তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দেয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাকে দেয়া চিঠিতে বিএফআইইউ বলছে, বেনামে, ছদ্মনামে বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে এক পরিচয়পত্রের বিপরীতে একাধিক ব্যক্তিগত হিসাব (অ্যাকাউন্ট) বন্ধ করা হলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। অবৈধভাবে প্রেরিত রেমিট্যান্স মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিতরণ বন্ধ হলে বৈধ পথে বাড়বে প্রবাসী আয়। অপহরণ, জঙ্গি অর্থায়ন ও অন্যান্য অপরাধে অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেনের গ্রহকের নিজ হিসাবের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, দেশে ১৮টি মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ ও ডাচবাংলা ব্যাংকের রকেট সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া ইউক্যাশ, শিওরক্যাশ, মাইক্যাশ, এমক্যাশ, ফার্স্ট পে, ওকে ব্যাংকিং, হ্যালো, মোবাইল মানি ইত্যাদি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে দেশে ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। যা একক মাস হিসেবে গত ৬ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আহরণ।

এসআই/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।