ভ্যাট কমানোর দাবি জুলেয়ারি সমিতির


প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ২৭ জুন ২০১৫

২০১৫-১৬ অর্থ বছরে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি। শনিবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের সভাপতি এনামুল হক এতে সই করেছেন।

তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এসআরও আদেশের মাধ্যমে মূল্য সংযোজনের নির্ধারিত হারের ভিত্তি বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত সমূদয় অর্থের শতকরা তেত্রিশ দশমিক তিন তিন ভাগ এবং নিট মূল্য সংযোজন করের হার ৩ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ ধার্য করেছে। বিগত ৫/৬ বছর যাবত স্বর্ণ ও রৌপ্যের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে জুয়েলারি ব্যবসায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ক্রেতা সাধারণ মূল্য বৃদ্ধির ফলে অলংকার ক্রয়ের পরিমাণ বহুলাংশে কমিয়ে দিয়েছে।

তাছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ, ভারতে জুয়েলারি শিল্পে ১ শতাংশ ভ্যাট বিদ্যমান থাকায় এবং ভারতের ভিসা প্রাপ্তি সহজলভ্য হওয়ায় এদেশের ক্রেতা সাধারণ ভারত থেকে স্বর্ণালংকার ক্রয়ে উৎসাহী হবে। উদাহরণ স্বরূপ আমাদের দেশে বর্তমানে আরোপিত ভ্যাট অনুযায়ী একজন ক্রেতা ১০ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার ক্রয় করলে তাকে ৫০ হাজার টাকা ভ্যাট প্রদান করতে হবে, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ১০ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার ক্রয় করলে মাত্র ১০ হাজার টাকা ভ্যাট প্রদান করতে হবে। ফলশ্রুতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জুয়েলারি শিল্পের উপর।

সংগঠনটি বলছে, জুয়েলারি ব্যবসায়ে ভ্যাট প্রবর্তনের পর থেকে তা সানন্দে গ্রহণ করে ক্রেতা সাধারণের নিকট থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করে সরকারি কোষাগারে নিয়মিত পরিশোধ করে আসছি। বিগত ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের বাজেটে ভ্যাট ২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৩ শতাংশ আরোপ করায় ক্রেতা সাধারণ স্বর্ণালংকার ক্রয় কমিয়ে দেয়। ফলে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জুয়েলারি শিল্পের উপর। যার কারণে বিক্রি কম হওয়ায় জুয়েলারি খাতে সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমে গেছে। ক্রেতা সাধারণ যেখানে ৩ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করে স্বর্ণালংকার ক্রয় করতে অনীহা প্রকাশ করছে, সেখানে গত  ৪ জুন (২০১৫) তারিখ জারিকৃত এসআরও অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে আরোপিত ভ্যাট সংগ্রহ ও প্রদান করা জুয়েলার্স এবং ক্রেতা সাধারণের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে স্বর্ণালংকারের উচ্চ মূল্যের সাথে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের ফলে জুয়েলারি ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ক্রেতাসাধারণ অলংকার ক্রয়ে নিরুৎসাহিত হবে।

তাই জুয়েলারি শিল্পকে বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী দেশের ন্যায় ভ্যাট ১ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ আরোপ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

এসএ/এসএইচএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।