কৃষিতে সরকারের ভর্তুকি আমাদের জন্য আশীর্বাদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৪ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
ছবি- মাহবুব আলম

‘সরকার এখনও কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ। এ আশীর্বাদ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে।’ বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও এক্সট্রিম এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট সলিউশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘পরিবর্তিত বিশ্বে প্রতিনিয়ত মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে। পরিবর্তন আসছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও। মানুষ এখন প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবারের প্রতি অধিক মনোযোগ দিচ্ছে। আমরা মানুষের সেই মনোভাবের ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাত করছি। আগামীতে আরও সম্ভাবনার নতুন নতুন দ্বার খুলে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণ।’

প্রয়াত বাবা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সাবেক প্রধান নির্বাহী মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীর উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান নির্বাহী আরও বলেন, ‘বাবা বলতেন, উদ্যোগ গ্রহণের প্রধান এবং প্রথম শর্ত হচ্ছে সাহস ও ধৈর্য। সামনে এগিয়ে যেতে হলে প্রথমেই ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’

jagonews24

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে গেল বৃহস্পতিবার থেকে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ‘অপরচুনিটিস ইন এগ্রো ফুড প্রসেসিং ফর নিউ বিজনেস ভেনচারস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক শিরোনামে শনিবারের টেকনিক্যাল সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণে উদ্যোগ, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে অনবদ্য বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি।

আহসান খান চৌধুরী বলেন, আমরা এখনও প্রক্রিয়াজাত পণ্য ভোগ করছি না। সরাসরি উৎপাদিত খাদ্যপণ্য ভোগ করছি। ইউরোপ-আমেরিকার মানুষ এখন প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ১০ বছর পর বাংলাদেশের চিত্রও একই হবে। মানুষ প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত হবেন।

তিনি বলেন, এক দশক পর বাংলাদেশে এ খাতে বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যারা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। এতে ব্যবসার পাশাপাশি খাবারের মানও বাড়বে। কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন।

jagonews24

‘দিন দিন কৃষি জমির পরিমাণ কমছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এখনই অল্প জমিতে অধিক পণ্য উৎপাদনের সময়। মানুষ বাড়ছে, মানুষের খাদ্যের চাহিদারও পরিবর্তন হচ্ছে। হয়ত আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ ইউরোপ-আমেরিকার মতো খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হবেন। এ কারণে আর বসে থাকার সুযোগ নেই।

‘আমাদের বাজার যদি আমরাই না ধরি হয়ত বাইরের কোনো কোম্পানি বাংলাদেশে চলে আসবে। এতে রাষ্ট্র, কৃষক ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

তিনি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে অন্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার এখনও কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ। এ আশীর্বাদ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়ায় আরও প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে, বাড়বে খাবারের মানও।

jagonews24

ভারতের বাজারে প্রাণ’র পণ্য বিশেষ অবস্থান দখল করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা এখন ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা করছি। বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পণ্য যাচ্ছে বলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। এর ব্যাপকতা আরও বাড়াতে হবে। এ কারণে তরুণ ও উদ্যোমী উদ্যোক্তাদের সুযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকাই অধিক।

বাপা’র সভাপতি এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সির সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল কনসালটেন্ট আবু সালেহ আহমেদ, বাপা’র কনসালটেন্ট মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন, মেলার সভাপতি নাজিমউদ্দিন প্রমুখ।

এএসএস/এমএআর/আরআইপি

বাবা বলতেন, উদ্যোগ গ্রহণের প্রধান এবং প্রথম শর্ত হচ্ছে সাহস ও ধৈর্য। সামনে এগিয়ে যেতে হলে প্রথমেই ধৈর্য ধারণ করতে হবে

আমাদের বাজার যদি আমরাই না ধরি হয়ত বাইরের কোনো কোম্পানি বাংলাদেশে চলে আসবে। এতে রাষ্ট্র, কৃষক ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন

আপনার মতামত লিখুন :