ঈদে নতুন টাকার বিক্রি বাড়ছে, চাহিদা বেশি ১০ টাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ১২ মে ২০২১

নিয়মিত টাকা বেচা-কেনা হচ্ছে রাজধানী ঢাকার গুলিস্তানে। যদিও ভেঙে ফেলা মুন সিনেমা হলের সামনে এবং আন্ডার পাস বা পাতাল সড়ক ও মার্কেটের ওপরে টাকা বিক্রি হয় প্রায় ৫০ বছর ধরে। তবে, এখন চলমান লকডাউনে ঈদুল ফিতরের আগে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।

গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের সিঁড়ির সামনের ফুটপাত ধরে দক্ষিণমুখী রাস্তা ধরে এ হাটটি বসে মূল রাস্তার দিকে মুখ করে। কম দামে টাকার বিনিময়ে নতুন টাকা, নতুন টাকার বিনিময়ে ছেঁড়া ও পুরান টাকা বিক্রি হচ্ছে এ ফুটপাতে। আবার ঈদের আগে টাকা দিয়ে টাকা বদল করে নতুন টাকার নোট নেন অনেকে।

গুলিস্তানে টাকা বিক্রির এ স্থানটি ঘিরেই অর্ধশতাধিকেরও বেশি মানুষ টাকা বেচা-কেনার ব্যবসা করছেন। এই ব্যবসা দিয়ে সংসার চলে তাদের সবার। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানে ঈদুল ফিতরের আগে সারা বছরের তুলনায় বিক্রি কিছুটা হলেও বেড়েছে। তবে, চাহিদা বেশি নতুন ১০ টাকার বান্ডেলের।

নতুন টাকার ব্যবসায়ী শহীদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘লকডাউন হলেও সারা বছরের তুলনায় টাকা বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে, গত রোজার ঈদে তো বিক্রিই হয়নি। এবার তো দোকান নিয়ে বসলাম। গত রোজার ঈদে লকডাউনে বসতেই পারিনি। যদিও গত রোজার তুলনায় এবারের রমজানের ঈদের আগে বিক্রি কিছুটা হলেও বেড়েছে।’

গুলিস্তানের এসব টাকার দোকানে দুই টাকা থেকে শুরু করে ১০, ২০, ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত সব ধরনের নোটের নতুন বান্ডেল পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ‘ছেঁড়া টাকা নিয়ে অনেকেই বেকায়দায় পড়েন। যারা এই ছেঁড়া টাকা চালাতে পারেন না তাদের কাছ থেকে টাকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমমূল্যে নোটগুলো কিনে নেন তারা। এ ছাড়া নতুন নোটের বান্ডেলও তারা বিক্রি করেন। এ ক্ষেত্রে ১০০ টাকার ১০ হাজারের একটি বান্ডেল ১০ হাজার ৩০০ টাকা, ১০০ টাকার ১ হাজারের একটি বান্ডেল ১ হাজার ৩০ টাকা। ২০ টাকার ১০০টি নতুন নোট নিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ৫০ টাকার ১০০টি নতুন নোট নিতে ৫০ টাকা, ১০০ টাকার ১০০টি নতুন নোট ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়।

jagonews24

তারা জানান, এর আগে প্রতিদিন ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতো। কখনও কখনও আবার মোটেও হতো না। তবে, কোনো কাস্টমার আসলে তাকে কেউ ফিরে যেতে দেন না। খুব কম লাভ হলেও টাকার নোট বিক্রি করে দেন তারা। উৎসবের মৌসুমে টাকা বিক্রি জমে ওঠে বলেও জানান তারা।

এখন চাহিদা বেশি থাকায় যেমন ১০ টাকার নোটের ১ হাজার টাকার বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৪০ টাকা বেশি দামে। দামও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘এই ১০ টাকার নতুন নোটের চাহিদা বেশি।’

ব্যবসায়ীরা জানান, দুই ঈদে টাকার চাহিদা থাকে বেশি। ঈদ মৌসুমে একজন ব্যবসায়ী টাকা বিক্রি করে কমপক্ষে এক লাখ টাকা আয় করেন। বছরের অন্যসব দিনে যে টাকা আয় হয় তার দ্বিগুণ আয় হয় দুই ঈদের সময়ে। যদিও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ফুটপাতে হকার বসার বিষয়ে কড়াকড়ির কারণে সবসময় বসা যেত না। তবে, ঈদ মৌসুমে এখন কড়াকরি একটু কম বলে জানান তারা।

এক ব্যবসায়ী জানান, ঈদ ছাড়া প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার নতুন বান্ডেল নিয়ে আসা হয়। কোনো কোনো সময় সব টাকাই বিক্রি হয়ে যায়। আবার কখনও কখনও বিক্রিই হয় না। টাকা বিক্রির খরচ বাদে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মতো থাকে। এ দিয়েই তাদের অনেকের সংসার চলে যায়।

তারা জানান, প্রতিদিন যে আয় হয় তার থেকে আবার ২০০ টাকা লাইনম্যানকে দিতে হয়। তারা পুলিশ ও ফুটপাতের জায়গা বিক্রি করে এ টাকা নেন। টাকা না দিলে ফুটপাতে বসতে দেয়া হয় না।

এফএইচ/ইএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।