স্কুলে নতুন বই বিতরণ আজ, উৎসব-অনুষ্ঠান করতে মানা
নতুন বছর, নতুন শিক্ষাবর্ষ। বছরের প্রথম দিনে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ। পুরোনো পাঠ্যবইয়ের বদলে হাতে উঠবে নতুন বই। দেশের কয়েক কোটি শিক্ষার্থীর হাতে এ বই তুলে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম পর্যন্ত সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে। তবে এ বছর কোনো উৎসব ও অনুষ্ঠান করা হবে না। নিজ নিজ বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বই নিতে পারবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। দুই মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বছর আগে থেকেই বই উৎসব না করার সিদ্ধান্ত ছিল। এর মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধ থেকে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর ও ১, ২ জানুয়ারি) তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলায় বই বিতরণকালে সব ধরনের উৎসব ও অনুষ্ঠান পরিহার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, এবার উৎসব হবে না। এটা আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধুমাত্র স্ব স্ব স্কুলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করবেন। ১ জানুয়ারি সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বই বিতরণ করার নির্দেশনা রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে বই বিতরণে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় শোক থাকলেও সব কার্যক্রম চলবে। সবাইকে কালো ব্যাজ ধারণ করতে হবে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। ফলে বই বিতরণে কোনো বাধা নেই।
একই কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। তিন বলেন, প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই আগেই স্কুলে স্কুলে পৌঁছে গেছে। ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থী শতভাগ বই হাতে পাবে।
উৎসব-অনুষ্ঠানে মানা
কোনো উৎসব ছাড়াই মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আংশিক পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে। এ বিতরণ কার্যক্রমকে ‘বই উৎসব’ হিসেবে আয়োজন করা যাবে না বলে জানিয়েছে মাউশি।
মাউশির কর্মকর্তারা জানান, বই বিতরণ করা হলেও কোনো উৎসবের আয়োজন থাকছে না। ব্যানার ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক আয়োজন করে বই উৎসব নামে কিছু করা যাবে না।
তাদের ভাষ্য, যেহেতু ওইদিন রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে ও এ বিষয়ে সরকারের আগেই নির্দেশনা রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে স্কুলগুলোতে পৌঁছানো বই বিতরণ করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে। এ পাঠ্যপুস্তক বিতরণকালে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করতে হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এবার মোট বইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি। শতভাগ বই ছাপা, বাঁধাই, কাটিংয়ের কাজ শেষে বিতরণে জন্য উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজ চলমান। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবমের মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে ৬৬ শতাংশ বই উপজেলার পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, বছরের প্রথম দিন শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে পারবো, সেটা আমরা বলছি না। কিন্তু শতভাগ শিক্ষার্থী যেন বই হাতে পায়, সে চেষ্টা করছি। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬ শতাংশের বেশি বই দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ৪৪ শতাংশ বই যতদ্রুত সম্ভব প্রস্তুত করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এএএইচ/এএমএ