শিক্ষা উপদেষ্টা

ডিগ্রি সুযোগ তৈরি করে দেয়, কিন্তু শিক্ষা দায়িত্বশীল করে তোলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:২৯ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার

পড়াশোনা যদি কেবল ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে সেই শিক্ষা অব্যবহৃতই থেকে যায় বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল (সিআর) আবরার।

তিনি বলেন, ডিগ্রি মানুষের সামনে সুযোগ তৈরি করে দেয়, কিন্তু শিক্ষা মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কী অর্জন করা হলো, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো এই অর্জন দিয়ে সমাজের জন্য কী করা হচ্ছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) তৃতীয় সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিআর আবরার বলেন, স্নাতক শেষে শিক্ষার্থীরা নতুন জীবনের পথে পা রাখছে, যেখানে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত যেন যুক্তিযুক্ত ও ন্যায়সংগত হয়, সেজন্য সময় নিয়ে ভাবতে হবে। এমনকি একজন সাধারণ কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও মানবিকতা, ন্যায্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বার্থ বিবেচনায় রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, দেশ একটি বড় রূপান্তরের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। এসময় কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায় সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। অতীতের যে ব্যবস্থা সংকট ও বিপর্যয় ডেকে এনেছে, সেখানে ফিরে যাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক দায়বদ্ধতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ন্যায়নীতি, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ছাড়া টেকসই সমাজ গড়া সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত অর্জন দিয়ে জীবনের সাফল্য পরিমাপ করা যায় না বরং সমাজের জন্য কী অবদান রাখা হলো, সেটাই প্রকৃত মূল্যায়নের মানদণ্ড।

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ব্র্যাকের চেয়ারম্যান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, স্নাতক ডিগ্রি কোনো পুরস্কার নয়, এটি একটি প্রতিশ্রুতি যা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে হার্ড স্কিল ও সফট স্কিল দুটোর সমন্বয়ই সাফল্যের চাবিকাঠি। দক্ষতার চাহিদা প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে, তাই নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতা চিহ্নিত করে প্রস্তুত থাকতে হবে। অনিশ্চয়তাকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করতে হবে, কারণ প্রস্তুতি-সুযোগ শনাক্ত করা এবং ব্যর্থতার পর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিই ভবিষ্যৎকে গড়ে তোলে।

সমাবর্তনে আরও বক্তব্য দেন সিআইইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীর মোহাম্মদ নুরুল আবসার। এসময় সিআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লুৎফে এম আইয়ুব, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট ইএসটিসিডির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারিয়া খান এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএএইচ/ইএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।