শিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের কেউ বাদ পড়বে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ০৩ মে ২০২৬
ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কেউ বাদ পড়বে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যদিও ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগটা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে। অনেক প্রশ্ন রয়েছে৷ তবুও আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি না। সবাই যোগদানের সুযোগ পাবে।

কবে নাগাদ যোগদান হতে পারে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খুব শিগগির। সচিবালয়ে গিয়ে ফাইল খুলে দেখে এটা বলা যাবে। কি কি প্রসিডিউর বাকি আছে, সেটা দেখতে হবে। প্রসিডিউর শেষ হলেই যোগদান করানো হবে।

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কিছু শর্তসাপেক্ষে যোগদান করানো হবে বলে মন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন। সেসব শর্ত কি কি হতে পারে—এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাদের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের এ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাতে তারা যোগ্য কি না, কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেটা দেখা হবে। ধরুন, তাদের যোগদানের পর পিটিআইতে ট্রেনিং নেবে। সেখানে যদি তারা ফেল করে তাহলে তো আর শিক্ষক হতে পারবে না।

‘তাছাড়া সরকারি বিধিতে যেটা আছে যে, চাকরিতে যোগদানের পর তারা সাকসেসফুলি (সফলভাবে) যদি দুই বছর পার করতে পারে, তাহলে তাদের রাখবো, পারমানেন্ট করবো। সবকিছুই করা হবে দেশের শিক্ষার স্বার্থে। আমরা সবাই চাই যোগ্য শিক্ষকরা নিয়োগ পাক, আমাদের সন্তানদের পড়াক’—যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

jagonews24ব্রিফিং করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, যোগদানের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ/প্রত্যয়ন ও ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া ১ মার্চের মধ্যে পরিচিতি প্রতিপাদন ও সব ডকুমেন্টস যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ (সব সনদের মূলকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, তিন কপি পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (যথাযথভাবে পূরণকৃত), সিভিল সার্জনের দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ-প্রত্যয়ন এবং ডোপ টেস্ট রিপোর্ট ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোটার সনদসহ সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়।

এসব নির্দেশনা অনুযায়ী সব কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও চূড়ান্ত নিয়োগপত্র না পাওয়ায় প্রার্থীরা যোগদান করতে পারছেন না।

এএএইচ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।