১৪ মার্চ সহিংসতাবিরোধী মানববন্ধন করবে ২১৫৪টি কলেজ
সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ এবং শিক্ষার পরিবেশের দাবিতে আগামী ১৪ মার্চ দেশব্যাপী মৌন মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের ২১৫৪টি কলেজে একযোগে এদিন বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ লাখ ছাত্রছাত্রী এবং অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষকের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। কোনো দাবির পক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই হবে সর্ববৃহৎ মানববন্ধন।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি পরীক্ষার ব্যাপারেও নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এগুলো হল- পরীক্ষা ছাড়াই কেবল এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ অনুযায়ী মেধা তালিকা তৈরি করে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে অনার্সে ভর্তি, ২৮ মার্চ থেকে ডিগ্রি পরীক্ষা, ৩০ এপ্রিল থেকে প্রথম বর্ষ অনার্স এবং ৭ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় বর্ষ অনার্স পরীক্ষা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে ভিসি বলেন, আমরা অপেক্ষা করছিলাম সহিংস পরিস্থিতির অবসান হোক। কিন্তু দুমাস অপেক্ষার পরও এ অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। সহসা এ অচলায়তন ভাঙারও কোনো লক্ষণ দৃশ্যমান নয়। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এখন কণ্ঠ উচ্চকিত করে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছে দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, এটা একটি নিষ্কলুষ (ইনোসেন্ট) কর্মসূচি। এর সঙ্গে সরকারের ক্ষমতার পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা একটি জাতীয় এজেন্ডা। তাই দলমত নির্বিশেষে আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি। তিনি ৩০ লাখ ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনায় রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রাজ্ঞ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হওয়ারও আহ্বান জানান।
ভিসি জানান, চলমান কর্মসূচির কারণে দুমাসে ৯ লাখ ছাত্রছাত্রীর তিনটি পরীক্ষা পিছিয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি স্নাতক (পাস) পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। আমরা এখন এটি আগামী ২৮ মার্চ থেকে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ পরীক্ষা ৩০ মে পর্যন্ত চলবে। এতে অংশ নেবেন প্রায় ৫ লাখ পরীক্ষার্থী। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রথম বর্ষ অনার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল, যা আমরা এখন আগামী ৩০ এপ্রিল এবং ১৫ মার্চ থেকে দ্বিতীয় বর্ষ অনার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল, যা এখন ৭ এপ্রিল থেকে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই দুই পরীক্ষায় যথাক্রমে ১ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী এবং ২ লাখ ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমণ্ডির নগর কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রোভিসি অধ্যাপক ড. মো. আসলাম ভূঁইয়া ও অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নোমান-উর-রশীদ এবং রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, গত দুই মাস ধরে চলা অবরোধ ও হরতালের কারণে আমাদের ইতিপূর্বে ঘোষিত ক্রাশ প্রোগ্রাম দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে, নতুন করে আরও সেশনজট তৈরি হবে- যদি না এখনই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করি। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেও আমরা শুধু শুক্র ও শনিবার নয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ব্যাপারে আলাপের জন্য ঢাকার ২৭ কলেজের অধ্যক্ষকে নিয়ে শনিবার বৈঠক করেছি। জাতীয় স্বার্থে তারা ছুটিছাটা না নিয়ে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহায়তা চাই। আমরা চাই রাজনীতি তার জায়গা থাকুক, শিক্ষা কার্যক্রম তার মতো চলুক। বিশ্বের অনেক দেশে এমনকি আমাদের এই দেশেও অতীতে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাই সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের আহ্বান- শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মসূচি যেন তারা না দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ১৪ মার্চের কর্মসূচির ব্যানারে কী লেখা হবে- সে নির্দেশনা দিয়ে ভিসি বলেন, শঙ্কামুক্ত জীবন চাই/নিরাপদে ক্লাস করতে ও পরীক্ষা দিতে চাই/শিক্ষা ধ্বংসকারী সহিংসতা বন্ধ করো। এই লেখাটুকু লিখে সবশেষে কলেজের নাম থাকবে। ভিসি জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের গেটে পালন করা হবে। ভিসির নেতৃত্বে সেখানে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাঁড়িয়ে যাবেন। সারা দেশের সব কলেজে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হবে। তিনি বলেন, আমরা ওইদিন সকাল ১১টা থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নিঃশব্দ মানববন্ধনে অংশ নেবো। সূত্র : যুগান্তর
এসএইচএ/এমএস