খারাপ ফলে আট বছরের রেকর্ড ভঙ্গ দিনাজপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৬ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৮
ছবি-ফাইল

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল গত আট বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে খারাপ। এ বছর পাসের হার গতবারের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। পাসের হারের পাশাপাশি কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও।

সংখ্যাগত দিক থেকে পাসের হার বাড়লেও গত বছরের চেয়ে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৯০ জন কমেছে। বেড়েছে ফেল করার সংখ্যাও।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবার এই শিক্ষাবোর্ডে এক বিষয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যা ২৮ হাজার ৮৮২ জন, দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ১২ হাজার ২০৮ জন, ও তিন বিষয়ের বেশি অকৃতকার্য অর্থাৎ পুনরায় পরীক্ষাং অংশ নিতে হবে ৮ হাজার ২৯৩ জনকে। সব মিলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৯ হাজার ৩৮৩ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে এবার ১৬ হাজার ৩৭৮ জন ছাত্রী অংশ নেয়, এদের মধ্যে পাস করেছে ১০ হাজার ১১১ জন। ছাত্র অংশ নেয় ১১ হাজার ৬৮ জন, এদের মধ্যে পাস করেছে ৭ হাজর ৯৭৮ জন।

মানবিক বিভাগ থেকে ৩৫ হাজার ৪৯২ জন ছাত্র অংশ নেয়, পাস করেছে ১৭ হাজার ৭৭৮ জন। আর ৪১ হাজার ৫৮৭ মেয়ে শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৫ হাজার ৪৭৮ জন।

বাণিজ্য বিভাগ থেকে ১১ হাজার ২৮৮ জন ছাত্র অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬ হাজার ১৯৫ জন। মেয়ে শিক্ষার্থী অংশ নেয় ৫ হজার ৫২১ জন, এদের মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ৬১১ জন।

সার্বিক পাসের হারে দেখা যায়, মোট ৬৩ হাজার ১৫৮ জন ছাত্র অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৪ হাজার ৮৮৪ জন, যা মোট পাসের হারের ৫৬ দশমিক ২২ শতাংশ। অন্যদিকে ৫৮ হাজার ১৭৬ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করে ৩৭ হাজার ৬৭ জন, যা মোট পাসের হারের ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

গত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৬ সালে মোট শিক্ষার্থী ছিল এক লাখ ৪ হাজার ৬৭৪ জন। এদের মধ্যে পাস করেছিল ৭২ হাজার ৮২৯ জন, পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

২০১৭ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ৭ হাজার ১৮৩ জন এবং পাস করে ৬৮ হাজার ৯৭২ জন। পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ২১ হাজার ৩৩৪ জন। পাস করেছে ৭১ হাজার ৯৫১ জন। পাশের হার ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ, যা গত আট বছরের তুলনায় সবচেয়ে কম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান ফলাফলের বিষয়ে বলেন, গত বছরের ফলাফলের চেয়ে এবারের ফলাফল আরও খারাপ হয়েছে। পরীক্ষায় জিপিএ-৫ কমেছে। ফেলের সংখ্যাও বেড়েছে।

‘একটি বিষয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যা বেশি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ের অভাব থাকতে পারে। এ থেকে উত্তরণের জন্য কয়েকদিনের মধ্যে আমরা বিষয়টি নিয়ে বসবো। বিভিন্ন কলেজের ইংরেজি শিক্ষকদের নিয়ে তাদের পাঠদান কীভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়ে কর্মশালা করার চিন্তা রয়েছে’,- বলেন তিনি।

তোফাজ্জুর রহমান বলেন, এবার শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নে কঠোরভাবে খাতা দেখা হয়েছে। খারাপ ফলাফলের আরেকটা কারণ হতে পারে এটি। অপরদিকে এই বোর্ডের অধীন কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাও জেলায় লেখাপড়ার মান পিছিয়ে রয়েছে। এবার যে ১২টি কলেজের একজনও পাস করে নাই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কলেজের ফলাফল ভালো করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কলেজগুলোতে পরিদর্শন বাড়ানো হবে এবং শিক্ষকদের আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

জেইউ/জেডএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :