দেশ পরিচালনায় তিন শর্তে ঐক্যের ডাক দিলেন জামায়াত আমির
আসন্ন নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করছেন তাদের প্রতি এক হয়ে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তবে এই ঐক্যে তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সাম্যের ও ঐক্যের আওয়াজ নিয়ে আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আপনারা কি দেশকে বিভক্ত করতে চান? জাতিকে বিভক্ত করতে চান? চান না। তাহলে আমাদের ঐক্যের এই আহ্বানে আসুন, আপনারা সাড়া দিয়ে আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি, আল্লাহ যদি তার মেহেরবানিতে আপনাদের ভোটের মাধ্যমে দেশ সেবার সুযোগ দেন, সরকার গঠনের সুযোগ দেন এবার যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, আমরা তাদের আহ্বান জানাবো আসুন পাঁচ বছর অন্তত দেশটা এক হয়ে চালাই। তবে তিনটা শর্ত মেনে আসতে হবে। প্রথম শর্ত হচ্ছে, নিজেরা কোনো দুর্নীতি করবেন না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে বগলের নিচে আশ্রয় দেবেন না।
দ্বিতীয়ত, সমাজে সকল মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করার দুঃসাহস কেউ দেখাবেন না, রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে পারবেন না, বিচারকে তার আপন গতিতে চলতে দিতে হবে এবং বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দেওয়া হবে। যাতে অর্থের বিনিময়ে নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতে একজন মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়। এখানে কে গরিব কে ধনী, কে কোন ধর্মের এটা দেখার কোনো সুযোগ নেই। সমাজের কে কোন চেয়ারে বসে আছেন ওইটাও দেখার কোনো সুযোগ নেই। যেই অপরাধে সাধারণ একজন মানুষকে শাস্তি দেওয়া হবে, আইনের আওতায় আনা হবে, একই অপরাধ যদি দেশের প্রেসিডেন্ট করেন তিনিও রেহাই পাবেন না। এর নাম হচ্ছে ন্যায়বিচার। কারো জন্যে আপনার বিচার আর কারো জন্যে দায়মুক্তি, এর নাম বিচার নয়। এটা বৈষম্য, বিচারের উপরে জুলুম। আমরা সেই বিচারের উপরে জুলুম মানব না।
তিন নম্বর শর্ত হচ্ছে, ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি আর চাই না। যেই রাজনীতি তার নেতা-নেত্রীকে চোর বানায়, লুটেরা বানায়, সন্ত্রাসী বানায়, ফ্যাসিস্ট বানায় ওই রাজনীতি আর আমরা দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে না আসে। দুর্নীতিবাজরা আর যাতে সমাজে চলাফেরা করতে না পারে, এমন একটা দেশ ও সমাজ গড়ার জন্যে দেশবাসী মুখিয়ে আছে। বিশেষ করে রক্ত দিয়ে লড়াই করা যুবক-যুবতীরা মুখিয়ে আছে। আমরা তাদের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে লড়াই যতদিন চালিয়ে যেতে হয় আমরা প্রস্তুত। এ লড়াই থামবে না। এ লড়াই তখনই পূর্ণতা পাবে যখন জনগণের ও বিশেষ করে আমাদের যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।
তিনি বলেন, এই তিন শর্তে যারা দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে চাইবেন, আমরা তাদেরকে বলব মোস্ট ওয়েলকাম। আসেন, সবাই মিলে আমরা আগামী বাংলাদেশটা গড়ে তুলবো, স্বপ্নের বাংলাদেশটা গড়ে তুলবো।
নদীর জীবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নাই। কার ভালো লাগলো আর কার লাগলো না এগুলো দেখার সময় নাই। আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্ব দেন, আমরা কথা দিচ্ছি উত্তরবঙ্গের সর্বপ্রথম আমরা ওখানেই কোদাল দিয়ে কোপ দেব ইনশাআল্লাহ। ওটাই আগে বাস্তবায়ন করবো। এই তিস্তাকে জীবন দেওয়ার মাধ্যমে গোটা উত্তরবঙ্গকে আমরা জীবন্ত করে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, এখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা যখনই বাস্তবায়ন হবে, তখন অনেকগুলো উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে। আমরা ইনশাআল্লাহ জায়গায় জায়গায় অ্যাগ্রো বেইজড ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলবো। আপনাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। পণ্য সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে। ফলমূল যা ফলে উত্তরবঙ্গে, তা দিয়ে সারা বছর বাংলাদেশের মানুষ আনন্দে খেতে পারতো, কিন্তু এগুলো সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই বলে খুব তাড়াহুড়ো করে পচে গলে অথবা বিক্রি করে সব শেষ হয়ে যায়। আমরা এই যন্ত্রণা থেকেও উত্তরবঙ্গের আমাদের চাষি কৃষক ভাইদের বের করে আনতে চাই।
জিতু কবীর/এমএন