আন্দোলনকারী ২৫ প্রাথমিক শিক্ষককে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

গ্রেড পরিবর্তন ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আগামীকাল বুধবার রাজধানীতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ মহাসমাবেশকে ঘিরে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তত ২৫ শিক্ষক ও শিক্ষক নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। এতে শিক্ষকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র ও রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকার ফায়দাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদরুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি। গেন্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককেও একই কারণে শোকজ করা হয়েছে। পুরানা ঢাকার সুরিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষককে গ্রেড পরিবর্তনের আন্দোলনে অংশ নেয়ার দায়ে শোকজ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বদরুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, গত ১৭ অক্টোবর তারিখ উল্লেখ করে আমাকে শোকজ করা হয়েছে। এতে পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে শোকজের উত্তর দিতে বলা হলেও, তা আজ মঙ্গলবার একজন সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে। উদ্দেশ্য, আমি যাতে জবাব দিতে না পারি। তবে আমি আজকে জবাব দিয়েছি।

এর আগে প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবিতে গত ১৪ই অক্টোবর সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়। পরদিন ১৫ অক্টোবর পালন করা হয় তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বাদ রাখেন শিক্ষকরা। ১৬ অক্টোবর এসব বিদ্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এরই অংশ হিসেবে গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতিতে যান শিক্ষকরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, দাবি আদায় না হলে ২৩ অক্টোবর রাজধানীতে মহাসমাবেশ করে সেখান থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি পালন শুরু করবেন তারা। প্রয়োজনে সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেয়া হতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে প্রাথমিক শিক্ষকদের একাধিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদেরকে আন্দোলন প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

জাকির হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তন বিষয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। প্রধান শিক্ষকদের ১১তম, সহকারী প্রধান শিক্ষক ১২ ও সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। এ বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তাই আন্দোলন না করে শিক্ষকদের ক্লাসে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে উপস্থিত শিক্ষকরা আগামীকাল বুধবার মহাসমাবেশে যোগ দেবেন না বলে প্রতিমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দেন। বুধবার সকালে রমনা পার্ক বা অন্য কোনো স্থানে জড়ো হলে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষকদের নিয়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হবে বলেও প্রতিমন্ত্রীর কাছে অঙ্গীকার করেন উপস্থিত একাধিক শিক্ষক। তবে প্রাথমিক শিক্ষকদের আরেকটি অংশ মহাসমাবেশে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পরও লাখো শিক্ষক মহাসমাবেশে জড়ো হচ্ছেন।

প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ছামছুদ্দীন মাসুদ মঙ্গলবার জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষকরা তাদের অধিকার আদায়ে ছুটির দিনে আন্দোলন করতে পারবেন না, তা হতে পারে না। যত বাধাই থাকুক আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি যথাসময়ে পালন করা হবে।

তিনি বলেন, নিজেদের দাবি আদায়ে শিক্ষকরা কোনো হুমকি ভয় পায় না, এ আন্দোলনে প্রায় পৌনে তিন লাখ শিক্ষক অংশগ্রহণ করছেন। মন্ত্রণালয় বিদ্যালয় ত্যাগের নির্দেশনা দিলেও কাল সরকারি ছুটি, এদিন সব বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।

এমএইচএম/এমএসএইচ/এমএস