ফেল করায় ২৩ শিক্ষার্থীকে টিসির সিদ্ধান্ত রাজউক উত্তরার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২২
ফাইল ছবি

রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ২৩ শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির এসব শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষার অকৃতকার্য হয়েছে। পরে আবার পরীক্ষা নেওয়া হলেও তাতে উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাদের টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোস সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঢাকা শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ক্লাস শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নথি থেকে তাদের নাম কাটা হয়েছে। আসনও শূন্য হওয়ার কথা।

ফেল করা ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির নয়জন রয়েছে। এছাড়া সপ্তম শ্রেণিতে একজন, বাকিরা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ না করে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, করোনা পরিস্থিতিতে স্কুলের সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকায় অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুলেছে। কিন্তু সরাসরি যে সংখ্যক ক্লাস হয়েছে, তাতেও শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পূরণ হয়নি। ৫৬ জনের মধ্যে প্রথম পরীক্ষায় ৪১ জন ফেল করে। এরপর ফের পরীক্ষা নিলে ১৩ জন ফেল করেছে। মূলত ঠিকমতো লেখাপড়া না করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর দায় যদি শিক্ষার্থীর হয়ে থাকে, তাহলে স্কুলেরও থাকার কথা।

আরেক অভিভাবক বলেন, আসলে স্কুল বা শিক্ষার্থী কাউকে এ দায় না দিয়ে এখন ঠিকমতো পড়ালেখা হওয়া দরকার। এ কাজটি করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেটি না করে কর্তৃপক্ষ দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তায়েফ উল হক সোমবার (১৭ জানুয়ারি) জাগো নিউজকে বলেন, এক ক্লাসে শিক্ষার্থীর দুই বছর থাকার নিয়ম নেই। করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকলেও শিক্ষকরা নিয়মিত অনলাইন ক্লাস নিয়েছেন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েছি। সেখানে অনেক শিক্ষার্থী ফেল করে। তাদের পরবর্তী দুই সপ্তাহ বিশেষ ক্লাস করিয়ে আবারও রি-টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়। সে পরীক্ষার ফেল করাদের ৬০ শতাংশ পাশ করলেও ২৩ জন ফেল করায় তাদের টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা বার্ষিক পরীক্ষায় সব বিষয় বাদ দিয়ে শুধু বাংলা, ইংরেজি ও অংক বিষয়ের উপর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নিয়েছি। যারা ফেল করেছে তারা নিয়মিত পড়ালেখা করেনি বলেই দুই দফায় পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ।

এমএইচএম/কেএসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]